১৯তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার সিলেবাস – স্কুল, স্কুল পর্যায়-২, কলেজ পর্যায়
শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার প্রস্তুতি শুরু করার আগে শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার সিলেবাস ও মানবণ্টন সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা রাখা জরুরি। কারণ, সিলেবাস জানা থাকলে কোন বিষয় থেকে কী কী পড়তে হবে এবং কোন টপিকে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে, তা সহজেই নির্ধারণ করা যায়।
বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (NTRCA) পরিচালিত শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা তিনটি পর্যায়ে অনুষ্ঠিত হয় – স্কুল পর্যায়, স্কুল পর্যায়-২ এবং কলেজ পর্যায়। প্রতিটি পর্যায়ের প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় বাংলা, ইংরেজি, সাধারণ গণিত ও সাধারণ জ্ঞান থাকলেও সিলেবাসে কিছু পার্থক্য রয়েছে। অন্যদিকে লিখিত পরীক্ষার সিলেবাস সম্পূর্ণ বিষয়ভিত্তিক।
আজকের আলোচনায় আমরা স্কুল পর্যায়ে শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার সিলেবাস, স্কুল পর্যায় ২ শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার সিলেবাস এবং কলেজ পর্যায় শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার সিলেবাস সম্পর্কে জানব।
পাশাপাশি ১৯ তম শিক্ষক নিবন্ধন সিলেবাস PDF Download করার লিংকও দেওয়া থাকবে।
সিলেবাস সংক্রান্ত সর্বশেষ তথ্য: এই গাইডে NTRCA-এর প্রচলিত সিলেবাস ও ১৮তম শিক্ষক নিবন্ধনের সিলেবাস অনুসরণ করা হয়েছে। ১৯তম শিক্ষক নিবন্ধনের জন্য নতুন বা সংশোধিত সিলেবাস প্রকাশিত হলে সেটিই অগ্রাধিকার পাবে।
আরও দেখুন: শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার যোগ্যতা
আরও দেখুন: ৬ষ্ঠ – ১৮তম শিক্ষক নিবন্ধন প্রশ্ন ব্যাংক PDF
১৯ শিক্ষক নিবন্ধন সিলেবাস PDF Download
যারা সম্পূর্ণ শিক্ষক নিবন্ধন সিলেবাস PDF সংগ্রহ করতে চাচ্ছেন, তাদের জন্য সর্বশেষ ১৮তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার সিলেবাস টির ডাউনলোড লিংক নিচে দেওয়া হল। প্রতিটি লিংক থেকে সংশ্লিষ্ট সিলেবাস গুলো PDF ফরমেটে Download করতে পারবেন।
| পরীক্ষার পর্যায় | সিলেবাস |
|---|---|
| স্কুল পর্যায় (প্রিলিমিনারি পরীক্ষার সিলেবাস) | PDF ডাউনলোড করুন |
| স্কুল পর্যায় (লিখিত পরীক্ষার সিলেবাস) | PDF ডাউনলোড করুন |
| স্কুল পর্যায়-২ (প্রিলিমিনারি পরীক্ষার সিলেবাস) | PDF ডাউনলোড করুন |
| স্কুল পর্যায়-২ (লিখিত পরীক্ষার সিলেবাস) | PDF ডাউনলোড করুন |
| কলেজ পর্যায় (প্রিলিমিনারি পরীক্ষার সিলেবাস) | PDF ডাউনলোড করুন |
| কলেজ পর্যায় (লিখিত পরীক্ষার সিলেবাস) | PDF ডাউনলোড করুন |
১৯ শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার সিলেবাস ও মানবণ্টন
বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (NTRCA) পরিচালিত শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা তিনটি পর্যায়ে অনুষ্ঠিত হয় – স্কুল পর্যায়, স্কুল পর্যায়-২ এবং কলেজ পর্যায়। প্রতিটি পর্যায়ের জন্য পৃথক প্রিলিমিনারি ও বিষয়ভিত্তিক লিখিত পরীক্ষার সিলেবাস নির্ধারিত রয়েছে।
তিনটি পর্যায়ের প্রিলিমিনারি পরীক্ষার বিষয় কোড হলো:
| পরীক্ষার পর্যায় | প্রিলিমিনারি বিষয় কোড |
| স্কুল পর্যায় | ৩০০ |
| স্কুল পর্যায়-২ | ২০০ |
| কলেজ পর্যায় | ৪০০ |
১৮তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার প্রচলিত পদ্ধতি অনুযায়ী প্রতিটি পর্যায়ে তিনটি ধাপে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে – প্রিলিমিনারি (MCQ), লিখিত (Written) ও মৌখিক (Viva)। প্রতিটি ধাপে উত্তীর্ণ প্রার্থীরা পরবর্তী ধাপে অংশগ্রহণের সুযোগ পান। নিম্নে তিনটি পর্যায়ের জন্য প্রচলিত পরীক্ষার ধাপ ও মানবণ্টন দেওয়া হলো।
| পরীক্ষার ধাপ | পূর্ণমান | সময় |
| প্রিলিমিনারি (MCQ) | ১০০ | ১ ঘণ্টা |
| লিখিত পরীক্ষা | ১০০ | ৩ ঘণ্টা |
| মৌখিক পরীক্ষা ও সনদ মূল্যায়ন | ২০ | কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত |
| মোট | ২২০ | – |
প্রিলিমিনারি পরীক্ষা মূলত একটি বাছাই পরীক্ষা, যেখানে প্রার্থীদের সাধারণ বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান যাচাই করা হয়। এই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে নিজ নিজ পর্যায়ের নির্বাচিত বিষয়ের ওপর ১০০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হয়। এরপর লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের মৌখিক পরীক্ষার জন্য ডাকা হয়।
উল্লেখ্য, ১৮তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার নিয়ম অনুযায়ী প্রিলিমিনারিতে পাস নম্বর ছিল ৪০ শতাংশ এবং প্রতিটি ভুল উত্তরের জন্য ০.২৫ নম্বর কাটা হতো। এছাড়া মৌখিক পরীক্ষার ২০ নম্বরের মধ্যে শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ মূল্যায়নে ১২ এবং প্রশ্নোত্তরে ৮ নম্বর বরাদ্দ ছিল।
শিক্ষক নিবন্ধন প্রিলিমিনারি পরীক্ষার মানবণ্টন
স্কুল পর্যায়, স্কুল পর্যায়-২ ও কলেজ পর্যায়ের প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় বাংলা, ইংরেজি, সাধারণ গণিত ও সাধারণ জ্ঞান – এই চারটি বিষয় থেকে মোট ১০০ নম্বরের MCQ প্রশ্ন করা হয়।
তিনটি পর্যায়ের বিষয়ভিত্তিক মানবণ্টন নিচে দেওয়া হলো:
| বিষয় | স্কুল পর্যায় | স্কুল পর্যায়-২ | কলেজ পর্যায় |
| বাংলা | ২৫ | ২৫ | ২৫ |
| ইংরেজি | ২৫ | ২৫ | ২৫ |
| সাধারণ গণিত | ২৫ | ২৫ | ২৫ |
| সাধারণ জ্ঞান | ২৫ | ২৫ | ২৫ |
| মোট | ১০০ | ১০০ | ১০০ |
তিনটি পর্যায়েই বাংলা, ইংরেজি, সাধারণ গণিত ও সাধারণ জ্ঞানে সমান ২৫ নম্বর বরাদ্দ থাকলেও নির্ধারিত টপিকে কিছু পার্থক্য রয়েছে। অন্যদিকে লিখিত পরীক্ষার সিলেবাস সম্পূর্ণ বিষয়ভিত্তিক। তাই প্রতিটি বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি নিজ পর্যায়ের সিলেবাস অনুসরণ করে প্রস্তুতি নেওয়া প্রয়োজন।
চলুন এবার স্কুল পর্যায়, স্কুল পর্যায়-২ ও কলেজ পর্যায়ের শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার পূর্ণাঙ্গ সিলেবাস দেখে নেওয়া যাক।
স্কুল পর্যায়ে শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার সিলেবাস
স্কুল পর্যায়ের শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার জন্য পৃথক সিলেবাস নির্ধারিত রয়েছে। এই পর্যায়ের পরীক্ষা মূলত নিম্নমাধ্যমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়সহ সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সহকারী শিক্ষক এবং সমমানের পদে নিবন্ধনপ্রত্যাশী প্রার্থীদের জন্য।
স্কুল পর্যায়ের প্রিলিমিনারি পরীক্ষার বিষয় কোড ৩০০। এই পরীক্ষায় বাংলা, ইংরেজি, সাধারণ গণিত ও সাধারণ জ্ঞান – চারটি বিষয় থেকে মোট ১০০ নম্বরের MCQ প্রশ্ন করা হয়।
স্কুল পর্যায়ের শিক্ষক নিবন্ধন প্রিলিমিনারি পরীক্ষার সিলেবাস ও মানবণ্টন
বাংলা (Bengali) – ২৫ নম্বর
স্কুল পর্যায়ে শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার বাংলা অংশে মূলত বাংলা ভাষা ও ব্যাকরণভিত্তিক প্রশ্নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এই অংশের নির্ধারিত বিষয়গুলো হলো:
- ভাষারীতি ও বিরামচিহ্নের ব্যবহার
- বাগধারা ও বাগবিধি
- ভুল সংশোধন বা শুদ্ধকরণ
- যথার্থ অনুবাদ
- সন্ধিবিচ্ছেদ
- কারক ও বিভক্তি
- সমাস ও প্রত্যয়
- সমার্থক ও বিপরীতার্থক শব্দ
- বাক্য সংকোচন বা এক কথায় প্রকাশ
- লিঙ্গ পরিবর্তন
বাংলা প্রস্তুতির পরামর্শ:
বাংলা অংশের প্রস্তুতির জন্য নবম-দশম শ্রেণির বাংলা ব্যাকরণ বই অনুসরণ করতে পারেন। বিশেষ করে সন্ধি, সমাস, কারক-বিভক্তি, প্রত্যয়, বাগধারা ও শুদ্ধকরণের নিয়মগুলো উদাহরণসহ বুঝে পড়ার চেষ্টা করুন।
পাশাপাশি বিগত শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার বাংলা প্রশ্ন সমাধান করে কোন টপিক থেকে কী ধরনের প্রশ্ন আসে, তা যাচাই করুন। এক্ষেত্রে MCQ Wizard-এর অধ্যায়ভিত্তিক প্রশ্ন থেকে নির্দিষ্ট টপিক ধরে অনুশীলন করতে পারেন।
এছাড়া পূর্ববর্তী প্রশ্ন বিশ্লেষণ (Repeat Tracker) ব্যবহার করে বিগত পরীক্ষায় কোন টপিক থেকে কতটি প্রশ্ন এসেছে, তা জেনে গুরুত্বপূর্ণ টপিকগুলোতে বাড়তি গুরুত্ব দিতে পারবেন।
ইংরেজি (English) – ২৫ নম্বর
স্কুল পর্যায়ে শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার ইংরেজি অংশে মূলত Grammar এবং Vocabulary-ভিত্তিক প্রশ্ন করা হয়। এই সিলেবাসে অন্তর্ভুক্ত টপিকগুলো হলো:
- Completing Sentences
- Translation from Bengali to English
- Change of Parts of Speech
- Right Form of Verbs
- Fill in the Blanks with Appropriate Words
- Transformation of Sentences
- Synonyms and Antonyms
- Idioms and Phrases
ইংরেজি প্রস্তুতির পরামর্শ:
ইংরেজি অংশে ভালো করতে হলে প্রথমেই Grammar-এর মৌলিক নিয়মগুলো আয়ত্ত করতে হবে। বিশেষ করে Right Form of Verbs, Transformation, Parts of Speech এবং Completing Sentences নিয়মিত অনুশীলন করুন।
এছাড়া প্রতিদিন কিছু নতুন Synonyms, Antonyms, Prepositions এবং Idioms and Phrases শেখার অভ্যাস গড়ে তুলুন। এক্ষেত্রে MCQ Wizard-এর ওয়ার্ড ব্যাংক (Word Bank) থেকে English Grammar ও Vocabulary-এর বিভিন্ন টপিক সহজে মনে রাখার কৌশল শিখতে পারবেন।
পাশাপাশি Synonyms, Prepositions, Phrases and Idioms-সহ নির্দিষ্ট টপিকের প্রশ্ন সমাধান করে নিজের প্রস্তুতি আরও ভালোভাবে ঝালিয়ে নিতে পারবেন।
সাধারণ গণিত (General Mathematics) – ২৫ নম্বর
স্কুল পর্যায়ে শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার সাধারণ গণিত অংশকে প্রধানত তিনটি ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে। যথা:
১. পাটিগণিত
- গড়
- ঐকিক নিয়ম
- ল.সা.গু. ও গ.সা.গু.
- শতকরা
- সুদকষা
- লাভ-ক্ষতি
- অনুপাত ও সমানুপাত
২. বীজগণিত
- উৎপাদক
- বর্গ ও ঘনসংক্রান্ত সূত্রাবলি এবং প্রয়োগ
- গ.সা.গু.
- বাস্তব সমস্যা সমাধানে বীজগাণিতিক সূত্র গঠন ও প্রয়োগ
- সূচক ও লগারিদমের সূত্র এবং প্রয়োগ
৩. জ্যামিতি
- রেখা ও কোণ
- ত্রিভুজ
- চতুর্ভুজ
- ক্ষেত্রফল
- বৃত্ত সম্পর্কিত সাধারণ ধারণা, নিয়ম ও প্রয়োগ
গণিত প্রস্তুতির পরামর্শ:
যারা গণিতে তুলনামূলক দুর্বল, তারা প্রথমে পাটিগণিতের মৌলিক অধ্যায়গুলো শেষ করুন। বিশেষ করে শতকরা, লাভ-ক্ষতি, গড়, অনুপাত ও ঐকিক নিয়ম ভালোভাবে বুঝে নিয়মিত অঙ্ক সমাধান করুন। এরপর বীজগণিত ও জ্যামিতির নির্ধারিত টপিকগুলোতে গুরুত্ব দিন।
গণিতের প্রস্তুতির ক্ষেত্রে শুধু সূত্র মুখস্থ না করে প্রতিটি সূত্রের প্রয়োগ বুঝতে হবে। এজন্য MCQ Wizard-এর শর্টকাট সূত্র ও টেকনিক সেকশন থেকে প্রয়োজনীয় সূত্র ও সমাধানের কৌশলগুলো শিখে নিতে পারেন। পাশাপাশি অধ্যায়ভিত্তিক পরীক্ষায় অংশ নিয়ে কোন ধরনের অঙ্ক সমাধানে বেশি ভুল হচ্ছে, তা খুঁজে বের করে পুনরায় অনুশীলন করুন।
সাধারণ জ্ঞান (General Knowledge) – ২৫ নম্বর
স্কুল পর্যায়ে শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার সাধারণ জ্ঞান অংশে প্রধানত বাংলাদেশ বিষয়াবলি, আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি এবং সাধারণ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি থেকে প্রশ্ন করা হয়। এই সিলেবাসে অন্তর্ভুক্ত টপিকগুলো হলো:
১. বাংলাদেশ বিষয়াবলি
- বাংলাদেশের ভূপ্রকৃতি, জলবায়ু ও পরিবেশ
- বাংলাদেশের ইতিহাস
- ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধ
- বাংলাদেশের সভ্যতা ও সংস্কৃতি
- অর্থনীতি, কৃষি, শিল্প ও প্রাকৃতিক সম্পদ
- যোগাযোগব্যবস্থা
- বাংলাদেশের সমাজজীবন ও জনমিতিক পরিচয়
- রাষ্ট্র, নাগরিকতা, সরকার ও রাজনীতি
- শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক উন্নয়নসংক্রান্ত নীতি ও পরিকল্পনা
- আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও মানবসম্পদ উন্নয়ন
২. আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি
- বিশ্বের ভৌগোলিক পরিচিতি
- আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও চলতি ঘটনাবলি
- জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা
- আঞ্চলিক ও অর্থনৈতিক সংগঠন
- আন্তর্জাতিক মুদ্রা সংস্থা
- পুরস্কার ও সম্মাননা
- জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্যোগ
- নবায়নযোগ্য শক্তি ও পরিবেশ
৩. সাধারণ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
- দৈনন্দিন জীবনে পদার্থবিজ্ঞান
- দৈনন্দিন জীবনে রসায়ন
- জীববিজ্ঞান ও মানবদেহ
- স্বাস্থ্য, চিকিৎসা ও সাধারণ রোগব্যাধি
- তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (ICT)
- পরিবেশবিজ্ঞান
সাধারণ জ্ঞান প্রস্তুতির পরামর্শ:
সাধারণ জ্ঞান অংশের প্রস্তুতিতে প্রথমে বাংলাদেশ বিষয়াবলির স্থায়ী টপিকগুলো ভালোভাবে শেষ করুন। এরপর আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি, বিজ্ঞান ও ICT-এর মৌলিক বিষয়গুলো পড়ুন। পাশাপাশি দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সাম্প্রতিক ঘটনাবলি নিয়মিত অনুসরণ করতে হবে।
এক্ষেত্রে MCQ Wizard-এর Current Affairs সেকশন থেকে বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলির সাম্প্রতিক তথ্য, মাসিক কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স এবং Dynamic Information-এর মাধ্যমে পরিবর্তনশীল গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলো পড়তে পারেন।
স্কুল পর্যায়ের শিক্ষক নিবন্ধন লিখিত পরীক্ষার সিলেবাস ও মানবণ্টন
স্কুল পর্যায়ের প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের পরবর্তী ধাপে ১০০ নম্বরের বিষয়ভিত্তিক লিখিত পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়। প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী পরীক্ষার সময় ৩ ঘণ্টা।
প্রিলিমিনারিতে বাংলা, ইংরেজি, সাধারণ গণিত ও সাধারণ জ্ঞান – এই চারটি বিষয় সবার জন্য নির্ধারিত থাকলেও লিখিত পরীক্ষার সিলেবাস প্রার্থীর নির্বাচিত বিষয় ও পদের ওপর নির্ভর করে।
নিচে স্কুল পর্যায়ের লিখিত পরীক্ষার বিষয় ও বিষয় কোডের তালিকা দেওয়া হলো।
| বিষয় | বিষয় কোড |
| বাংলা | ৩০১ |
| ইংরেজি | ৩০২ |
| সমাজবিজ্ঞান | ৩০৭ |
| গার্হস্থ্য অর্থনীতি | ৩১০ |
| ব্যবসায় শিক্ষা | ৩১১ |
| কৃষি শিক্ষা | ৩১২ |
| কম্পিউটার শিক্ষা | ৩১৩ |
| ইসলাম শিক্ষা | ৩১৪ |
| হিন্দুধর্ম | ৩১৫ |
| বৌদ্ধধর্ম | ৩১৬ |
| খ্রিষ্টধর্ম | ৩১৭ |
| শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া | ৩১৮ |
| পদার্থবিজ্ঞান | ৩১৯ |
| রসায়ন | ৩২০ |
| গণিত | ৩২১ |
| চারু ও কারুকলা | ৩২৪ |
| কম্পিউটার বিজ্ঞান | ৩২৫ |
| গ্রন্থাগার ও তথ্যবিজ্ঞান | ৩২৬ |
| গ্রন্থাগার ও তথ্যবিজ্ঞান | ৩২৭ |
| সামাজিক বিজ্ঞান | ৩২৯ |
| আরবি (সহকারী মৌলভী) | ৩৩০ |
| তাজবিদ (সহকারী মৌলভী-ক্বারী) | ৩৩১ |
| ভৌতবিজ্ঞান | ৩৩২ |
| জীববিজ্ঞান | ৩৩৩ |
নিচে স্কুল পর্যায়ের লিখিত পরীক্ষার বিভিন্ন বিষয়ের কোড, প্রধান টপিক ও প্রযোজ্য মানবণ্টন দেওয়া হলো।
বাংলা – বিষয় কোড ৩০১
বাংলা লিখিত পরীক্ষার ১০০ নম্বর দুটি বিভাগে বিভক্ত।
ক বিভাগ: সাহিত্য – ৬০ নম্বর
- নির্বাচিত প্রবন্ধ: বাঙ্গালা ভাষা, সভ্যতার সংকট, সাহিত্যে খেলা, অর্ধাঙ্গী, বাংলার জাগরণ, রাজবন্দীর জবানবন্দী, সংস্কৃতি কথা ও বই কেনা।
- নির্বাচিত গল্প: শাস্তি, পুঁই মাচা, হুজুর কেবলা, প্রাগৈতিহাসিক, নতুন জন্ম, আত্মজা ও একটি করবী গাছ, কালো মাফলার ও রেইনকোট।
- নির্বাচিত কবিতা: আত্মবিলাপ, ঐকতান, বিদ্রোহী, বনলতা সেন, কবর, বর্ণমালা, আমার দুখিনী বর্ণমালা, আমার পরিচয় ও সোনালী কাবিন।
- নির্বাচিত উপন্যাস: চাঁদের অমাবস্যা।
- নির্বাচিত নাটক: রক্তাক্ত প্রান্তর।
সাহিত্য অংশে সাধারণ প্রশ্ন ৪০, সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন বা টীকা ১২ এবং সপ্রসঙ্গ ব্যাখ্যায় ৮ নম্বর বরাদ্দ রয়েছে।
খ বিভাগ: ভাষা শিক্ষা – ৪০ নম্বর
- ভাষারীতি (সাধু ও চলিত), ছন্দ, বাংলা বানান ও উচ্চারণের নিয়ম – ১৫ নম্বর।
- আবেদনপত্র, দাপ্তরিক পত্র, ব্যবসায়িক পত্র, প্রতিবেদন বা ভাষণ রচনা – ৫ নম্বর।
- অনুবাদ অথবা পারিভাষিক শব্দ – ৫ নম্বর।
- প্রবন্ধ রচনা: নৈতিকতা, বিজ্ঞান-প্রযুক্তি, জলবায়ু, ইতিহাস, সংস্কৃতি, অর্থনীতি, উন্নয়ন ও সাম্প্রতিক বিষয় — ১৫ নম্বর।
ইংরেজি (English) – বিষয় কোড ৩০২
ইংরেজি লিখিত পরীক্ষায় পাঁচটি অংশে মোট ১০০ নম্বর বরাদ্দ রয়েছে।
- Grammar – ২০ নম্বর: Preposition, Subject-Verb Agreement, Tense, Transformation, Voice, Narration, Correction, Connectors, Phrases and Idioms, Completing Sentences ও Modal Auxiliaries।
- Translation – ১০ নম্বর: বাংলা থেকে ইংরেজিতে অনুবাদ।
- Reading – ১৫ নম্বর: Unseen Passage থেকে MCQ (৫ নম্বর) এবং সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন (১০ নম্বর)।
- Stylistic Devices ও Literary Terms – ১৫ নম্বর: Imagery, Simile, Metaphor, Irony, Symbol, Personification, Alliteration, Sonnet, Ode, Elegy, Ballad, Satire, Poetry ও Drama-সহ নির্ধারিত সাহিত্যিক পরিভাষা।
- Writing – ৪০ নম্বর: Formal Letter, Paraphrasing, Paragraph Writing ও কোনো সমস্যার সমাধানমূলক লেখা – প্রতিটিতে ১০ নম্বর।
সমাজবিজ্ঞান (Sociology) – বিষয় কোড ৩০৭
- সমাজবিজ্ঞান ও সামাজিক চিন্তা: সমাজবিজ্ঞানের ধারণা, অন্যান্য সামাজিক বিজ্ঞানের সঙ্গে সম্পর্ক, কার্ল মার্কস, এমিল দুর্খেইম ও ম্যাক্স ওয়েবারের তত্ত্ব।
- সংস্কৃতি ও সামাজিকীকরণ: সংস্কৃতির উপাদান, বিবাহ, পরিবার, জ্ঞাতি সম্পর্ক ও সামাজিকীকরণ।
- সামাজিক বৈষম্য ও পরিবর্তন: শ্রেণিবিন্যাস, দারিদ্র্য, মধ্যবিত্ত শ্রেণি, বিশ্বায়ন ও সামাজিক পরিবর্তন।
- বাংলাদেশের সমাজব্যবস্থা: জনসংখ্যা, অভিবাসন, পরিবেশ, অপরাধ ও বিচ্যুতি, পল্লী উন্নয়ন এবং বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী।
গার্হস্থ্য অর্থনীতি (Home Economics) – বিষয় কোড ৩১০
- গৃহ ব্যবস্থাপনা ও গৃহায়ন: সম্পদ ব্যবস্থাপনা, সিদ্ধান্ত গ্রহণ, বাজেট, সঞ্চয় ও পরিবেশ সংরক্ষণ।
- শিশু বিকাশ ও পারিবারিক সম্পর্ক: শিশুর বিকাশের বিভিন্ন পর্যায়, পরিবার, কিশোর অপরাধ ও প্রতিবন্ধী শিশুর অধিকার।
- খাদ্য ও পুষ্টিবিজ্ঞান: সুষম খাদ্য, খাদ্য উপাদান, পুষ্টি সংরক্ষণ, বয়সভিত্তিক খাদ্য পরিকল্পনা ও রোগীর পথ্য।
- বস্ত্র ও ব্যবহারিক শিল্পকলা: বস্ত্র নির্বাচন, তাঁতশিল্প, ব্লক-বাটিক, স্ক্রিনপ্রিন্ট, টাইডাই ও বাংলাদেশের কারুশিল্প।
ব্যবসায় শিক্ষা (Business Studies) – বিষয় কোড ৩১১
- হিসাববিজ্ঞান: হিসাব সমীকরণ, দু’তরফা দাখিলা পদ্ধতি, জাবেদা, খতিয়ান, রেওয়ামিল, চূড়ান্ত হিসাব ও ব্যাংক সমন্বয় বিবরণী।
- ব্যবসায় পরিচিতি: ব্যবসায় সংগঠন, মালিকানার ধরন, ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প, ব্যাংকিং ও বীমা।
- অর্থায়ন ও বাজারজাতকরণ: মূলধনের উৎস, মূলধন ব্যয়, লভ্যাংশনীতি, বাজার বিভক্তিকরণ ও Marketing Mix।
- ব্যবসায় উদ্যোগ ও বাণিজ্যিক ভূগোল: আত্মকর্মসংস্থান, ঋণ ব্যবস্থাপনা এবং বাংলাদেশের কৃষি, বনজ, মৎস্য ও খনিজ সম্পদ।
কৃষি শিক্ষা (Agriculture) – বিষয় কোড ৩১২
কৃষি শিক্ষা লিখিত পরীক্ষায় ১০টি ইউনিট রয়েছে। প্রতিটি ইউনিটে ১০ নম্বর করে বরাদ্দ।
- Agriculture (Part 1): কৃষির ধারণা, আবহাওয়া ও জলবায়ু, ফসলের মৌসুম, Crop Rotation, বীজ উৎপাদন এবং সার ও উদ্ভিদ পুষ্টি।
- Agriculture (Part 2): ফসলের পোকামাকড় ও রোগবালাই, কীটনাশক ব্যবহারে সতর্কতা, মাঠ ফসল ও উদ্যান ফসল উৎপাদন।
- Soil Science: মাটির গঠন, pH, অম্লত্ব, ক্ষারত্ব, উর্বরতা ও সার ব্যবস্থাপনা।
- Environmental Science: বাস্তুতন্ত্র, প্রাকৃতিক সম্পদ, পরিবেশদূষণ, জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা।
- Forestry: বন, বনায়ন, সামাজিক বনায়ন ও Agroforestry।
- Botany: উদ্ভিদের শ্রেণিবিন্যাস, সালোকসংশ্লেষণ, শ্বসন, প্রস্বেদন ও কোষ বিভাজন।
- Agricultural Economics & Engineering: কৃষিঋণ, সমবায়, কৃষিযন্ত্র, সেচ ও নিষ্কাশনব্যবস্থা।
- Animal Husbandry & DVM: গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগি পালন, জাত, খাদ্য ও রোগ প্রতিরোধ।
- Genetic Engineering: DNA, RNA, উদ্ভিদ প্রজনন, Biotechnology ও Tissue Culture।
- Fisheries & Zoology: মাছ ও চিংড়ি চাষ, মিশ্র মাছ চাষ, মাছের রোগ, সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণ।
কম্পিউটার শিক্ষা (Computer Education) – বিষয় কোড ৩১৩
- কম্পিউটারের ইতিহাস, প্রজন্ম, শ্রেণিবিন্যাস, Hardware ও Software।
- Decimal, Binary, Octal ও Hexadecimal সংখ্যা পদ্ধতি এবং রূপান্তর।
- Data Processing, BCD, EBCDIC ও ASCII Code।
- Logic Gate: AND, OR, NOT, NAND ও NOR।
- Operating System: DOS ও Windows।
- Algorithm, Variable ও Flowchart।
- Internet, E-mail, WWW ও Web Browser।
ইসলাম শিক্ষা (Islamic Studies) – বিষয় কোড ৩১৪
- আল-কুরআনুল কারিম: সূরা আল-বাকারা, আন-নিসা, আল-আনফাল ও আলে ইমরানের নির্ধারিত অংশ।
- আল-হাদিস: কিতাবুল ইমান, কিতাবুস সালাত ও কিতাবুল আদব।
- আল-ফিকহ ও উসুলুল ফিকহ: তাহারাত, সালাত, নিকাহ ও সংশ্লিষ্ট বিধান।
- আরবি সাহিত্য: নির্ধারিত গদ্য ও পদ্য।
- আরবি ভাষা ও ব্যাকরণ: সরফ, নাহু, অনুবাদ, দরখাস্ত, পত্র ও রচনা।
হিন্দুধর্ম (Hindu Religion) – বিষয় কোড ৩১৫
- ঈশ্বর ও সৃষ্টিতত্ত্ব।
- ঋগ্বেদ, অথর্ববেদ, উপনিষদ, গীতা এবং ধর্মীয় স্তব-স্তোত্র।
- ধর্মদর্শন, কর্মযোগ, জ্ঞানযোগ, ভক্তিযোগ ও জন্মান্তরবাদ।
- বৈদিক সাহিত্য, পুরাণ ও ধর্মগ্রন্থ।
- বৈদিক দেবদেবী, ধর্মীয় আচার ও দশবিধ সংস্কার।
- নীতিশিক্ষা, ধর্মীয় উপাখ্যান ও আদর্শ জীবনচরিত।
বৌদ্ধধর্ম (Buddhist Religion) – বিষয় কোড ৩১৬
- বৌদ্ধ ইতিহাস ও ঐতিহ্য: গৌতম বুদ্ধের জীবনী, বোধিসত্ত্ব, বুদ্ধত্ব লাভ, মহাপরিনির্বাণ ও বৌদ্ধ তীর্থস্থান।
- বৌদ্ধ সংস্কৃতি ও ধর্মাচার: দান, শীল, সংঘদান, কঠিন চীবর দান, বুদ্ধপূর্ণিমা, অষ্টাঙ্গিক মার্গ ও চতুরার্য সত্য।
- ধর্মগ্রন্থ ও সাহিত্য: ত্রিপিটক, ধম্মপদ, জাতক ও অট্ঠকথা।
খ্রিষ্টধর্ম (Christian Religion) – বিষয় কোড ৩১৭
- বাইবেলের পুরাতন নিয়ম: আদিপুস্তক, যাত্রাপুস্তক, শমূয়েল, রূথ, যিশাইয় ও দানিয়েল।
- নতুন নিয়ম: মথি ও লূকের সুসমাচার, যিশুর জীবন, শিক্ষা ও প্রেরিতদের কার্যাবলি।
- ধর্মীয় সংস্কার ও ইতিহাস: সাক্রামেন্ট, বাংলাদেশে খ্রিষ্টমণ্ডলীর ইতিহাস ও মুক্তিযুদ্ধে খ্রিষ্টানদের অবদান।
- নৈতিক শিক্ষা: মানবিক মূল্যবোধ, সামাজিক দায়িত্ব ও পরিবেশ সংরক্ষণ।
শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া – বিষয় কোড ৩১৮
- প্রাত্যহিক সমাবেশ, বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও হাউস সিস্টেম।
- অ্যাথলেটিকস, ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ড এবং খেলাধুলা পরিচালনা পদ্ধতি।
- শারীরিক শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও টিফিন প্রোগ্রাম।
- ফুটবল, ক্রিকেট, ভলিবল, হ্যান্ডবল ও ব্যাডমিন্টনের নিয়মকানুন।
- জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সাম্প্রতিক ক্রীড়া তথ্য।
- খেলাধুলায় আঘাত ও প্রতিকার।
পদার্থবিজ্ঞান (Physics) – বিষয় কোড ৩১৯
- বলবিদ্যা ও বস্তুর সাধারণ ধর্ম: Vector, কাজ, ক্ষমতা, শক্তি, মহাকর্ষ, Torque, সরল ছন্দিত স্পন্দন, স্থিতিস্থাপকতা ও প্রবাহী পদার্থ।
- তাপ ও তাপগতিবিদ্যা: তাপমাত্রা, Calorimetry, গ্যাসের গতিতত্ত্ব ও তাপগতিবিদ্যার সূত্র।
- আলো: তরঙ্গতত্ত্ব, Huygens’ Principle, Interference, Diffraction ও Polarization।
- বিদ্যুৎ: Coulomb’s Law, Capacitance, Ohm’s Law, বৈদ্যুতিক বর্তনী ও Electromagnetic Induction।
- আধুনিক পদার্থবিজ্ঞান: পরমাণুর গঠন, X-ray, তেজস্ক্রিয়তা, Semiconductor, PN Junction ও Transistor।
রসায়ন (Chemistry) – বিষয় কোড ৩২০
- ভৌত রসায়ন: গ্যাসের সূত্র, তরল পদার্থের ধর্ম, Colligative Properties, pH ও Buffer Solution।
- জৈব রসায়ন: Hybridization, Isomerism, নামকরণ এবং বিভিন্ন জৈব যৌগের প্রস্তুতি ও বিক্রিয়া।
- অজৈব রসায়ন: পরমাণুর গঠন, রাসায়নিক বন্ধন, পর্যায় সারণি, জটিল যৌগ ও তেজস্ক্রিয়তা।
- শিল্প ও পলিমার রসায়ন: কাগজ, কাঁচ, সাবান, সার, Polymer এবং Pharmaceutical Chemicals।
গণিত (Mathematics) – বিষয় কোড ৩২১
- বীজগণিত: বাস্তব সংখ্যা, ধারার যোগফল, রৈখিক সমীকরণ, Matrix ও Determinant।
- জ্যামিতি: দ্বিমাত্রিক ও ত্রিমাত্রিক জ্যামিতি, সরলরেখা, দূরত্ব ও Vector।
- Calculus: Function, Limit, Continuity, Differentiation ও Integration।
- Differential Equation: প্রথম ক্রম ও প্রথম ঘাতের অন্তরক সমীকরণ, Fourier Series ও Laplace Transform।
চারু ও কারুকলা (Fine Arts) – বিষয় কোড ৩২৪
এই বিষয়ের ১০০ নম্বরের মধ্যে ব্যবহারিক ৫০ এবং তত্ত্বীয় ৫০ নম্বর বরাদ্দ।
ব্যবহারিক – ৫০ নম্বর
- Drawing: মানুষ, জীবজন্তু ও প্রকৃতি – ৩০ নম্বর।
- Design: মৌলিক ও ব্যবহারিক নকশা – ২০ নম্বর।
তত্ত্বীয় – ৫০ নম্বর
- অঙ্কন, চিত্রায়ণ, গ্রাফিক ডিজাইন, ছাপচিত্র, মৃৎশিল্প, ভাস্কর্য ও উপকরণের কৌশল – ১০ নম্বর।
- শিল্পকলার ইতিহাস: প্রাচীন, প্রাচ্য, পাশ্চাত্য এবং বাংলাদেশের সমকালীন ও লোকশিল্প – ৪০ নম্বর।
নির্ধারিত সিলেবাসে ব্যবহারিক ও তত্ত্বীয় উভয় অংশে পৃথকভাবে পাস নম্বর অর্জনের কথা উল্লেখ রয়েছে।
কম্পিউটার বিজ্ঞান (Computer Science) – বিষয় কোড ৩২৫
সংযুক্ত সিলেবাসে এই বিষয়ের প্রধান টপিকগুলো হলো:
- কম্পিউটারের মৌলিক ধারণা, ইতিহাস, প্রজন্ম ও শ্রেণিবিন্যাস।
- Hardware, Software, Input, Output, Memory ও Control Unit।
- Number System ও Binary Arithmetic।
- Data Representation: BCD, EBCDIC ও ASCII।
- Logic Gate ও Logic Circuit।
- Operating System, Algorithm ও Flowchart।
- Internet, E-mail ও Web Browser।
গ্রন্থাগার ও তথ্যবিজ্ঞান (Library and Information Science) – বিষয় কোড ৩২৬ ও ৩২৭
সংযুক্ত সিলেবাসে উভয় বিষয় কোডের জন্য ১০টি ইউনিট উল্লেখ রয়েছে। প্রতিটি ইউনিটের মান ১০ নম্বর।
- Introduction to LIS: Data, Information, Knowledge, Wisdom এবং Five Laws of Library Science।
- Library & Society: গ্রন্থাগারের ইতিহাস, সমাজ ও তথ্যযোগাযোগ।
- Information Sources & Services: Primary, Secondary ও Tertiary Sources; Reference Service, CAS ও SDI।
- Information Resources Development: বই নির্বাচন, সংগ্রহ, Stock Taking ও Weeding।
- Documentation & Information Retrieval: Indexing, Abstracting, Search Techniques ও Boolean Operators।
- Library Management: POSDCORB, Strategic Planning, বাজেট ও গ্রন্থাগার পরিচালনা।
- Classification: DDC, UDC, CC ও LC।
- Cataloguing: MARC, OPAC ও Subject Headings।
- ICT in Libraries: Library Automation, RFID ও Digital Library।
- Information Literacy: Big6, PLUS, Copyright, Plagiarism ও তথ্যের নৈতিক ব্যবহার।
সামাজিক বিজ্ঞান (Social Science) – বিষয় কোড ৩২৯
সামাজিক বিজ্ঞান লিখিত পরীক্ষায় ১০টি ইউনিট রয়েছে। প্রতিটি ইউনিট থেকে ১০ নম্বরের একটি করে প্রশ্ন নির্ধারিত।
- রাষ্ট্রবিজ্ঞান পরিচিতি: রাষ্ট্রবিজ্ঞানের মৌলিক ধারণা, রাষ্ট্রচিন্তাবিদ, সরকারব্যবস্থা ও রাজনৈতিক দল।
- বাংলাদেশের অভ্যুদয় ও সংবিধান: ভাষা আন্দোলন, ছয় দফা, গণঅভ্যুত্থান, মুক্তিযুদ্ধ এবং সংবিধানের মূলনীতি।
- সমাজবিজ্ঞান পরিচিতি: সমাজতাত্ত্বিক তত্ত্ব, সংস্কৃতি, সামাজিক পরিবর্তন, পরিবার, জনসংখ্যা ও অপরাধ।
- সমাজকর্ম ও সামাজিক সমস্যা: দারিদ্র্য, বেকারত্ব, মাদকাসক্তি, কিশোর অপরাধ, সমাজসেবা ও সামাজিক নিরাপত্তা।
- অর্থনীতির মৌলিক ধারণা: চাহিদা, যোগান, ভারসাম্য দাম, জাতীয় আয়, GDP ও মূল্যস্ফীতি।
- বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন: ব্যাংক ব্যবস্থা, বৈদেশিক বাণিজ্য, মানবসম্পদ ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রকল্প।
- সাধারণ ইতিহাস পরিচিতি: বাংলার ইতিহাস, ইউরোপের ইতিহাস এবং ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাস।
- ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি: প্রাক্-ইসলামি আরব, মহানবী (সা.), খোলাফায়ে রাশেদীন, স্পেনে মুসলিম শাসন ও ভারতীয় উপমহাদেশের মুসলিম ইতিহাস।
- প্রাকৃতিক ভূগোল: ভূমিকম্প, আগ্নেয়গিরি, সুনামি, জোয়ার-ভাটা, পরিবেশদূষণ, দুর্যোগ ও জলবায়ু পরিবর্তন।
- বাংলাদেশের প্রাকৃতিক ও অর্থনৈতিক ভূগোল: ভূপ্রকৃতি, জলবায়ু, নদ-নদী, কৃষি, শিল্প, বনজ ও খনিজ সম্পদ এবং যোগাযোগব্যবস্থা।
আরবি (সহকারী মৌলভী) – বিষয় কোড ৩৩০
আরবি লিখিত পরীক্ষায় পাঁচটি অংশে মোট ১০০ নম্বর বরাদ্দ রয়েছে।
- আল-কুরআনুল কারিম – ১৫ নম্বর: সূরা আল-বাকারা, আলে ইমরান, আন-নিসা ও আল-আনফালের নির্ধারিত অংশের অনুবাদ, ব্যাখ্যা ও শানে নুযুল।
- আল-হাদিস – ১৫ নম্বর: নির্ধারিত হাদিসের অনুবাদ, ব্যাখ্যা, তাহকিক ও তারকিব।
- আরবি ভাষা – ৩০ নম্বর: নির্ধারিত গদ্য-পদ্য, অনুবাদ, ব্যাখ্যা, সারাংশ, সংলাপ ও অনুচ্ছেদ রচনা।
- আরবি ব্যাকরণ – ৩০ নম্বর: সরফ, নাহু, কাওয়াইদ, বাক্য সংশোধন, তারকিব, অনুবাদ, দরখাস্ত, পত্র ও রচনা।
- আল-ফিকহ ও উসুলুল ফিকহ – ১০ নম্বর: তাহারাত, সাওম এবং শরিয়তের উৎস ও বিধান।
তাজবিদ (সহকারী মৌলভী-ক্বারী) – বিষয় কোড ৩৩১
এই বিষয়ের লিখিত পরীক্ষা দুটি বিভাগে বিভক্ত।
ক বিভাগ – ৪০ নম্বর
- আল-কুরআনের নির্ধারিত আয়াতের অনুবাদ, ব্যাখ্যা, শানে নুযুল ও তাহকিক – ১০ নম্বর।
- আল-হাদিসের অনুবাদ, ব্যাখ্যা ও সংশ্লিষ্ট বিধান – ১০ নম্বর।
- আল-ফিকহ: তাহারাত, সালাত ও নিকাহ – ১০ নম্বর।
- উসুলুল ফিকহ ও শরিয়তের উৎস – ১০ নম্বর।
খ বিভাগ: তাজবিদ – ৬০ নম্বর
- কুরআন মাজিদের পরিচয় ও সংকলনের ইতিহাস।
- ইলমুত তাজবিদের পরিচয়, উদ্দেশ্য, গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা।
- সাত ক্বারী ও চৌদ্দ রাবীর পরিচয়।
- আউজুবিল্লাহ ও বিসমিল্লাহ পাঠের বিধান।
- হরফের মাখরাজ ও সিফাত।
- মাদ্দ, নুন সাকিন, তানবিন ও মিম সাকিনের বিধান।
- তাফখিম ও তারকিক, হা-এ জমির, ওয়াকফ ও লাহান।
- কুরআনের আয়াত থেকে তাজবিদের কায়দা শনাক্তকরণ ও উদাহরণ উপস্থাপন।
ভৌতবিজ্ঞান (Physical Science) – বিষয় কোড ৩৩২
ভৌতবিজ্ঞান লিখিত পরীক্ষায় রসায়ন ৫০ এবং পদার্থবিজ্ঞান ৫০ নম্বর বরাদ্দ রয়েছে।
রসায়ন – ৫০ নম্বর
- ভৌত রসায়ন – ১০ নম্বর: গ্যাসের সূত্র, রাসায়নিক সাম্যাবস্থা, তড়িৎ রাসায়নিক কোষ, তাপ রসায়ন ও রাসায়নিক গণনা।
- অজৈব রসায়ন – ১০ নম্বর: পরমাণুর গঠন, পর্যায় সারণি, রাসায়নিক বন্ধন, জারণ-বিজারণ, ধাতু নিষ্কাশন ও তেজস্ক্রিয়তা।
- জৈব ও পরিবেশ রসায়ন – ১০ নম্বর: জৈব যৌগের নামকরণ, হাইড্রোকার্বন, অ্যালিফেটিক যৌগ এবং পানি, মাটি ও বায়ুদূষণ।
- শিল্প রসায়ন – ১০ নম্বর: পলিমার, ফার্মাসিউটিক্যাল রসায়ন এবং কাগজ, কাঁচ, সাবান, সারসহ বিভিন্ন শিল্পপণ্য।
- রসায়নে আধুনিক প্রযুক্তি – ১০ নম্বর: গুণগত ও পরিমাণগত বিশ্লেষণ, Chromatography, Spectral Analysis ও Beer-Lambert Law।
পদার্থবিজ্ঞান – ৫০ নম্বর
- বলবিদ্যা ও বস্তুর সাধারণ ধর্ম – ১০ নম্বর: Vector, Newton’s Laws, কাজ, ক্ষমতা, শক্তি, মহাকর্ষ ও পদার্থের গাঠনিক ধর্ম।
- তরঙ্গ, শব্দ ও তাপগতিবিদ্যা – ১০ নম্বর: পর্যায়বৃত্ত গতি, শব্দ তরঙ্গ, তাপমাত্রা, Calorimetry ও তাপগতিবিদ্যার সূত্র।
- আলোকবিজ্ঞান – ১০ নম্বর: Reflection, Refraction, Mirror, Lens, Prism, Interference, Diffraction ও Polarization।
- বিদ্যুৎ ও চুম্বক বিজ্ঞান – ১০ নম্বর: Electrostatics, Current Electricity, Magnetism ও Electromagnetic Induction।
- আধুনিক পদার্থবিজ্ঞান ও ইলেকট্রনিক্স – ১০ নম্বর: X-ray, Radioactivity, Relativity, Photoelectric Effect, Semiconductor, Diode ও Transistor।
জীববিজ্ঞান (Biology) – বিষয় কোড ৩৩৩
জীববিজ্ঞান লিখিত পরীক্ষায় ১০টি ইউনিট থেকে মোট ১০টি প্রশ্ন থাকে। প্রতিটি প্রশ্নের মান ১০ নম্বর।
- Cell, Cell Division & Tissue: উদ্ভিদ ও প্রাণিকোষ, কোষের অঙ্গাণু, DNA, RNA, কোষচক্র, মাইটোসিস, মিয়োসিস এবং টিস্যু।
- Taxonomy: জীবের শ্রেণিবিন্যাস, দ্বিপদ নামকরণ, পাঁচ রাজ্য শ্রেণিবিন্যাস এবং মেরুদণ্ডী ও অমেরুদণ্ডী প্রাণী।
- Microorganisms: Virus, Bacteria, গঠন, বিস্তার, উপকারিতা এবং উদ্ভিদ ও মানুষের বিভিন্ন রোগ।
- Photosynthesis & Respiration: সালোকসংশ্লেষণ, Calvin Cycle, C4 ও CAM Pathway, Glycolysis ও TCA Cycle।
- Nutrition: উদ্ভিদ ও মানবদেহের পুষ্টি, খনিজ লবণ শোষণ, পরিপাকতন্ত্র, BMI ও BMR।
- Coordination & Control: উদ্ভিদ হরমোন, Vernalization, মস্তিষ্ক, স্নায়ু, ইন্দ্রিয় এবং অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি।
- Reproduction: উদ্ভিদের প্রজনন, পরাগায়ন, নিষেক, মানব প্রজননতন্ত্র, Gametogenesis ও Embryogenesis।
- Biodiversity & Ecology: জীববৈচিত্র্য, বাস্তুতন্ত্র, Food Chain, Food Web, পরিবেশ সংরক্ষণ ও বিপন্ন প্রাণী।
- Genetics & Evolution: Mendel’s Laws, বংশগতি, Lamarckism, Darwinism, Neo-Darwinism ও বিবর্তনের প্রমাণ।
- Biotechnology & Genetic Engineering: Tissue Culture, Recombinant DNA Technology এবং কৃষি ও চিকিৎসায় জিনপ্রযুক্তির প্রয়োগ।
স্কুল পর্যায়ের লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতির পরামর্শ
লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতি শুরু করার আগে নিজের বিষয় কোড অনুযায়ী নির্ধারিত সিলেবাস সংগ্রহ করুন। এরপর প্রতিটি ইউনিটের টপিক ও নম্বর বণ্টন দেখে একটি পড়ার পরিকল্পনা তৈরি করুন।
শুধু তথ্য মুখস্থ না করে গুরুত্বপূর্ণ সংজ্ঞা, ব্যাখ্যা, বিশ্লেষণ ও গাণিতিক সমস্যা লিখে অনুশীলন করুন। পাশাপাশি বিগত শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার লিখিত প্রশ্নগুলো সমাধান করে প্রশ্নের ধরন ও উত্তর লেখার কৌশল সম্পর্কে ধারণা নিন।
বিশেষ করে ইংরেজি, গণিত ও বিজ্ঞানভিত্তিক বিষয়ের প্রার্থীদের নিয়মিত Writing Practice এবং সমস্যা সমাধানে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উত্তর লেখার অভ্যাসও গড়ে তুলতে হবে।
উল্লেখ্য: এখানে স্কুল পর্যায়ের বিভিন্ন বিষয়ের প্রধান টপিক ও মানবণ্টনের সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি বিষয়ের সব নির্ধারিত অধ্যায়, উপ-টপিক ও প্রশ্নের কাঠামো জানতে NTRCA-এর প্রকাশিত পূর্ণাঙ্গ লিখিত সিলেবাস অনুসরণ করুন।
স্কুল পর্যায়-২ শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার সিলেবাস
স্কুল পর্যায় ও স্কুল পর্যায়-২ শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার মধ্যে মূল পার্থক্য হলো নিবন্ধনের জন্য নির্ধারিত পদ এবং লিখিত পরীক্ষার বিষয়ভিত্তিক সিলেবাস।
স্কুল পর্যায়-২ মূলত এবতেদায়ি মাদরাসার জুনিয়র মৌলভী, জুনিয়র শিক্ষক ও ক্বারী এবং কারিগরি ও ভোকেশনাল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত ট্রেড ইন্সট্রাক্টর পদের প্রার্থীদের জন্য।
এই পর্যায়ের প্রিলিমিনারি পরীক্ষার বিষয় কোড ২০০। পরীক্ষার পূর্ণমান ১০০ এবং সময় ১ ঘণ্টা।
স্কুল পর্যায়-২ প্রিলিমিনারি পরীক্ষার সিলেবাস ও মানবণ্টন
স্কুল পর্যায়-২-এর প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় বাংলা, ইংরেজি, সাধারণ গণিত ও সাধারণ জ্ঞান – এই চারটি বিষয় থেকে মোট ১০০ নম্বরের MCQ প্রশ্ন করা হয়।
| বিষয় | পূর্ণমান |
| বাংলা | ২৫ |
| ইংরেজি | ২৫ |
| সাধারণ গণিত | ২৫ |
| সাধারণ জ্ঞান | ২৫ |
| মোট | ১০০ |
চলুন এবার প্রতিটি বিষয়ের নির্ধারিত টপিক ও প্রস্তুতির পরামর্শ দেখে নেওয়া যাক।
বাংলা (Bengali) – ২৫ নম্বর
স্কুল পর্যায়-২ শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার বাংলা অংশে মূলত ভাষা ও ব্যাকরণ থেকে প্রশ্ন করা হয়। নির্ধারিত টপিকগুলো হলো:
- ভাষারীতি ও বিরামচিহ্নের ব্যবহার
- বাগধারা ও বাগবিধি
- ভুল সংশোধন বা শুদ্ধকরণ
- যথার্থ অনুবাদ
- সন্ধিবিচ্ছেদ
- কারক ও বিভক্তি
- সমাস ও প্রত্যয়
- সমার্থক ও বিপরীতার্থক শব্দ
- বাক্য সংকোচন বা এক কথায় প্রকাশ
- লিঙ্গ পরিবর্তন
বাংলা প্রস্তুতির পরামর্শ:
বাংলা অংশের প্রস্তুতির জন্য নবম-দশম শ্রেণির বাংলা ব্যাকরণ বই অনুসরণ করতে পারেন। বিশেষ করে সন্ধি, সমাস, কারক-বিভক্তি, প্রত্যয়, বাগধারা ও শুদ্ধকরণের নিয়মগুলো উদাহরণসহ বুঝে পড়ার চেষ্টা করুন।
পাশাপাশি বিগত শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার বাংলা প্রশ্ন সমাধান করে কোন টপিক থেকে কী ধরনের প্রশ্ন আসে, তা যাচাই করুন। এক্ষেত্রে MCQ Wizard-এর অধ্যায়ভিত্তিক প্রশ্ন থেকে নির্দিষ্ট টপিক ধরে অনুশীলন করতে পারেন। এছাড়া পূর্ববর্তী প্রশ্ন বিশ্লেষণ (Repeat Tracker) ব্যবহার করে বিগত পরীক্ষায় কোন টপিক থেকে কতটি প্রশ্ন এসেছে, তা জেনে গুরুত্বপূর্ণ টপিকগুলোতে বাড়তি গুরুত্ব দিতে পারবেন।
ইংরেজি (English) – ২৫ নম্বর
স্কুল পর্যায়-২-এর ইংরেজি অংশে Grammar ও Vocabulary-ভিত্তিক প্রশ্নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সিলেবাসের অন্তর্ভুক্ত টপিকগুলো হলো:
- Completing Sentences
- Translation from Bengali to English
- Change of Parts of Speech
- Right Form of Verbs
- Fill in the Blanks with Appropriate Words
- Transformation of Sentences
- Synonyms and Antonyms
- Idioms and Phrases
ইংরেজি প্রস্তুতির পরামর্শ:
ইংরেজি অংশে ভালো করতে হলে প্রথমেই Grammar-এর মৌলিক নিয়মগুলো আয়ত্ত করতে হবে। বিশেষ করে Right Form of Verbs, Transformation, Parts of Speech এবং Completing Sentences নিয়মিত অনুশীলন করুন।
এছাড়া প্রতিদিন কিছু নতুন Synonyms, Antonyms, Prepositions এবং Idioms and Phrases শেখার অভ্যাস গড়ে তুলুন। এক্ষেত্রে MCQ Wizard-এর ওয়ার্ড ব্যাংক (Word Bank) থেকে English Grammar ও Vocabulary-এর বিভিন্ন টপিক সহজে মনে রাখার কৌশল শিখতে পারবেন। পাশাপাশি নির্দিষ্ট টপিকের সংশ্লিষ্ট প্রশ্ন সমাধান করে নিজের প্রস্তুতি আরও ভালোভাবে ঝালিয়ে নিতে পারবেন।
সাধারণ গণিত (General Mathematics) – ২৫ নম্বর
স্কুল পর্যায়-২ শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার সাধারণ গণিত অংশকে প্রধানত পাটিগণিত, বীজগণিত ও জ্যামিতি—এই তিনটি ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে।
১. পাটিগণিত
- গড়
- ল.সা.গু. ও গ.সা.গু.
- ঐকিক নিয়ম
- শতকরা
- সুদকষা
- লাভ-ক্ষতি
- অনুপাত ও সমানুপাত
২. বীজগণিত
- উৎপাদক
- বর্গ ও ঘনসংক্রান্ত সূত্রাবলি এবং প্রয়োগ
- গ.সা.গু.
- বাস্তব সমস্যা সমাধানে বীজগাণিতিক সূত্র গঠন ও প্রয়োগ
- সূচক ও লগারিদমের সূত্র এবং প্রয়োগ
৩. জ্যামিতি
- রেখা ও কোণ
- ত্রিভুজ
- চতুর্ভুজ
- ক্ষেত্রফল
- বৃত্ত সম্পর্কিত সাধারণ ধারণা, নিয়ম ও প্রয়োগ
গণিত প্রস্তুতির পরামর্শ:
যারা গণিতে তুলনামূলক দুর্বল, তারা প্রথমে পাটিগণিতের মৌলিক অধ্যায়গুলো শেষ করুন। বিশেষ করে শতকরা, লাভ-ক্ষতি, গড়, অনুপাত ও ঐকিক নিয়ম ভালোভাবে বুঝে নিয়মিত অঙ্ক সমাধান করুন। এরপর বীজগণিত ও জ্যামিতির নির্ধারিত টপিকগুলোতে গুরুত্ব দিন।
গণিতের প্রস্তুতির ক্ষেত্রে শুধু সূত্র মুখস্থ না করে প্রতিটি সূত্রের প্রয়োগ বুঝতে হবে। এজন্য MCQ Wizard-এর শর্টকাট সূত্র ও টেকনিক সেকশন থেকে প্রয়োজনীয় সূত্র ও সমাধানের কৌশলগুলো শিখে নিতে পারেন। পাশাপাশি অধ্যায়ভিত্তিক পরীক্ষায় অংশ নিয়ে কোন ধরনের অঙ্ক সমাধানে বেশি ভুল হচ্ছে, তা খুঁজে বের করে পুনরায় অনুশীলন করুন।
সাধারণ জ্ঞান (General Knowledge) – ২৫ নম্বর
স্কুল পর্যায়-২-এর সাধারণ জ্ঞান অংশে প্রধানত বাংলাদেশ বিষয়াবলি, আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি এবং সাধারণ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি থেকে প্রশ্ন করা হয়।
১. বাংলাদেশ বিষয়াবলি
- বাংলাদেশের ভূপ্রকৃতি, জলবায়ু ও পরিবেশ
- বাংলাদেশের ইতিহাস
- ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধ
- বাংলাদেশের সভ্যতা ও সংস্কৃতি
- অর্থনীতি, কৃষি, শিল্প ও প্রাকৃতিক সম্পদ
- বাংলাদেশের যোগাযোগব্যবস্থা
- সমাজজীবন, সামাজিক সমস্যা ও জনমিতিক পরিচয়
- রাষ্ট্র, নাগরিকতা, সরকার ও রাজনীতি
- সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনা
- অর্থনৈতিক, সামাজিক, স্বাস্থ্য ও শিক্ষাসংক্রান্ত নীতি, পরিকল্পনা ও কর্মসূচি
- আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও মানবসম্পদ উন্নয়ন
২. আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি
- বিশ্বের ভৌগোলিক পরিচিতি
- আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও চলতি ঘটনাবলি
- জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা
- আঞ্চলিক ও অর্থনৈতিক সংগঠন
- আন্তর্জাতিক মুদ্রা ও অর্থনীতি সম্পর্কিত বিষয়
- পুরস্কার ও সম্মাননা
- জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্যোগ
- নবায়নযোগ্য শক্তি ও পরিবেশ
৩. সাধারণ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
- দৈনন্দিন জীবনে পদার্থবিজ্ঞান
- দৈনন্দিন জীবনে রসায়ন
- জীববিজ্ঞান ও মানবদেহ
- স্বাস্থ্য, চিকিৎসা ও সাধারণ রোগব্যাধি
- তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (ICT)
- পরিবেশবিজ্ঞান
সাধারণ জ্ঞান প্রস্তুতির পরামর্শ:
সাধারণ জ্ঞান অংশের প্রস্তুতিতে প্রথমে বাংলাদেশ বিষয়াবলির স্থায়ী টপিকগুলো ভালোভাবে শেষ করুন। এরপর আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি, বিজ্ঞান ও ICT-এর মৌলিক বিষয়গুলো পড়ুন। পাশাপাশি দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সাম্প্রতিক ঘটনাবলি নিয়মিত অনুসরণ করতে হবে।
এক্ষেত্রে MCQ Wizard-এর Current Affairs সেকশন থেকে বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলির সাম্প্রতিক তথ্য, মাসিক কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স এবং Dynamic Information-এর মাধ্যমে পরিবর্তনশীল গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলো পড়তে পারেন।
স্কুল পর্যায়-২ লিখিত পরীক্ষার সিলেবাস ও মানবণ্টন
স্কুল পর্যায়-২-এর প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের নিজ নিজ পদ ও নির্বাচিত বিষয়ের ওপর ১০০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়। সর্বশেষ শিক্ষক নিবন্ধনের সিলেবাস অনুযায়ী লিখিত পরীক্ষার সময় ৩ ঘণ্টা।
এই পর্যায়ে জুনিয়র শিক্ষক, ইবতেদায়ি মৌলভী, ইবতেদায়ি ক্বারী এবং বিভিন্ন কারিগরি ট্রেড ইন্সট্রাক্টর পদের লিখিত সিলেবাস আলাদা। তাই প্রস্তুতি শুরু করার আগে নিজের পদ, বিষয় ও বিষয় কোড নিশ্চিত করা জরুরি।
নিচে স্কুল পর্যায়-২ লিখিত পরীক্ষার বিষয় ও বিষয় কোডের তালিকা দেওয়া হলো।
স্কুল পর্যায়-২ লিখিত পরীক্ষার বিষয় ও বিষয় কোড
| বিষয় বা ট্রেড | বিষয় কোড |
| ভাষা (বাংলা ও ইংরেজি) – জুনিয়র শিক্ষক | ২০১ |
| কুরআন, তাজবিদ ও ফিকহ – ইবতেদায়ি মৌলভী | ২০২ |
| অ্যাগ্রোবেজড ফুড (Agro Based Food) | ২০৩ |
| ফিশ কালচার অ্যান্ড ব্রিডিং/শ্রিম্প কালচার অ্যান্ড ব্রিডিং | ২০৪ |
| পোলট্রি রিয়ারিং অ্যান্ড ফার্মিং | ২০৫ |
| ফুল, ফল ও সবজি চাষ | ২০৬ |
| ফুড প্রসেসিং অ্যান্ড প্রিজারভেশন | ২০৭ |
| জেনারেল ইলেকট্রিক্যাল ওয়ার্কস/ইলেকট্রিক্যাল মেইনটেন্যান্স ওয়ার্কস | ২০৮ |
| জেনারেল ইলেকট্রনিক্স | ২০৯ |
| অটোমোটিভ | ২১০ |
| ফার্ম মেশিনারি | ২১১ |
| রেফ্রিজারেশন অ্যান্ড এয়ার কন্ডিশনিং | ২১২ |
| বিল্ডিং মেইনটেন্যান্স/সিভিল কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড সেফটি | ২১৩ |
| কম্পিউটার ও তথ্যপ্রযুক্তি | ২১৪ |
| জেনারেল মেকানিক্স | ২১৫ |
| ওয়েল্ডিং অ্যান্ড ফেব্রিকেশন | ২১৬ |
| ড্রেস মেকিং | ২১৭ |
| সিভিল ড্রাফটিং উইথ CAD | ২১৮ |
| মেকানিক্যাল ড্রাফটিং উইথ CAD | ২১৯ |
| লাইভস্টক রিয়ারিং অ্যান্ড ফার্মিং | ২২০ |
| পেশেন্ট কেয়ার টেকনিক | ২২১ |
| প্লাম্বিং অ্যান্ড পাইপ ফিটিং | ২২২ |
| আর্কিটেকচারাল ড্রাফটিং উইথ CAD | ২২৩ |
| কুরআন মাজিদ, তাজবিদ ও ফিকহ – ইবতেদায়ি ক্বারী | ২২৪ |
| ফুড প্রসেসিং | ২২৫ |
| সিভিল কনস্ট্রাকশন | ২২৬ |
| জেনারেল ইলেকট্রিক্যাল ওয়ার্কস | ২২৭ |
| জেনারেল ইলেকট্রনিক্স ওয়ার্কস | ২২৮ |
| তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (ICT) | ২২৯ |
এখানে প্রতিটি বিষয়ের লিখিত পরীক্ষা ১০০ নম্বরের হলেও প্রশ্নের ধরন ও বিভাগভিত্তিক মানবণ্টন এক নয়। যেমন, জুনিয়র শিক্ষক পদে বাংলা ও ইংরেজিতে ৫০ নম্বর করে রয়েছে। অন্যদিকে কিছু কারিগরি ট্রেডে সংক্ষিপ্ত প্রশ্নে ৪০ ও রচনামূলক প্রশ্নে ৬০ নম্বর বরাদ্দ, আবার কিছু ট্রেডে ১০টি ইউনিট থেকে ১০ নম্বর করে প্রশ্ন করা হয়।
চলুন এবার বিভিন্ন পদের লিখিত পরীক্ষার নির্ধারিত টপিকগুলো দেখে নেওয়া যাক।
১. ভাষা (বাংলা ও ইংরেজি) – বিষয় কোড ২০১
জুনিয়র শিক্ষক পদের লিখিত পরীক্ষায় বাংলা ও ইংরেজিতে সমান ৫০ নম্বর করে বরাদ্দ রয়েছে।
বাংলা – ৫০ নম্বর
- উচ্চমাধ্যমিক বাংলা সংকলনের সিলেবাসভুক্ত গদ্য ও পদ্যাংশ।
- ব্যাকরণ: সমাস, উপসর্গ, প্রকৃতি ও প্রত্যয়, সন্ধি, সমার্থক ও বিপরীতার্থক শব্দ, ধাতু, বিরামচিহ্ন ও বাগধারা।
- পত্র লিখন: আবেদনপত্র, দাপ্তরিক পত্র ও সামাজিক সমস্যা নিয়ে সংবাদপত্রে চিঠি।
- ভাবসম্প্রসারণ।
- সারাংশ লিখন।
ইংরেজি – ৫০ নম্বর
- Grammar: Parts of Speech, Articles, Tense, Kinds of Verbs ও Voice Change।
- Translation from Bangla to English।
- Letter/Application Writing এবং কোনো সমস্যা নিয়ে Report Writing।
- Paragraph Writing।
- Comprehension।
২. কুরআন, তাজবিদ ও ফিকহ – বিষয় কোড ২০২
ইবতেদায়ি মৌলভী পদের লিখিত পরীক্ষায় চারটি বিভাগ রয়েছে।
- আল-কুরআন – ৪০ নম্বর: সূরা আল-বাকারা, আন-নিসা, আল-আনআম ও আত-তাওবার নির্ধারিত অংশের অনুবাদ, ব্যাখ্যা, শানে নুযুল, শব্দ বিশ্লেষণ এবং সংশ্লিষ্ট শরয়ি বিধান।
- তাজবিদ – ২০ নম্বর: হরফের মাখরাজ, মাদ্দ, নুন সাকিন, তানবিন ও মিম সাকিনের বিধান।
- আরবি সাহিত্য ও ব্যাকরণ – ২০ নম্বর: নির্ধারিত আরবি গদ্য, ইবারতের অনুবাদ, তাহকিক, তারকিব, মারফুআত, মানসুবাত, নাহু ও সরফ।
- ফিকহ – ২০ নম্বর: সালাত, সাওম, হজ ও কুরবানির বিধান।
৩. কুরআন মাজিদ, তাজবিদ ও ফিকহ – বিষয় কোড ২২৪
ইবতেদায়ি ক্বারী পদের লিখিত পরীক্ষায় দুটি বিভাগ রয়েছে।
ক বিভাগ – ৪০ নম্বর
- আল-কুরআন – ১০ নম্বর: সূরা আল-বাকারা এবং সূরা আল-বুরুজ থেকে আন-নাস পর্যন্ত নির্ধারিত অংশের অনুবাদ, ব্যাখ্যা ও তাহকিক।
- আল-হাদিস – ১০ নম্বর: কিতাবুল ইমান, কিতাবুল ইলম ও কিতাবুল আদবের নির্ধারিত অংশ।
- আল-ফিকহ – ২০ নম্বর: তাহারাত, সালাত, সাওম, যাকাত ও হজের বিধান।
খ বিভাগ: তাজবিদ – ৬০ নম্বর
- কুরআন মাজিদের পরিচয় ও সংকলনের ইতিহাস।
- ইলমুত তাজবিদের পরিচয়, উদ্দেশ্য ও গুরুত্ব।
- সাত ক্বারী ও চৌদ্দ রাবীর পরিচয়।
- আউজুবিল্লাহ ও বিসমিল্লাহ পাঠের বিধান।
- হরফের মাখরাজ ও সিফাত।
- মাদ্দ, নুন সাকিন, তানবিন ও মিম সাকিনের বিধান।
- তাফখিম ও তারকিক, হা-এ জমির, ওয়াকফ ও লাহান।
- কুরআনের আয়াত থেকে তাজবিদের কায়দা শনাক্তকরণ ও ব্যাখ্যা।
৪. কারিগরি ও ভোকেশনাল ট্রেড ইন্সট্রাক্টর পদের লিখিত সিলেবাস
স্কুল পর্যায়-২-এর অধীনে বিভিন্ন কারিগরি ও ভোকেশনাল ট্রেডের জন্যও পৃথক লিখিত সিলেবাস রয়েছে। নিচে বিষয়ভিত্তিক প্রধান টপিকগুলো সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো।
কৃষি, খাদ্য ও স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্ট ট্রেড
- অ্যাগ্রোবেজড ফুড (২০৩): খাদ্যের গুণমান ও মাননিয়ন্ত্রণ, খাদ্য ও পুষ্টি, চাল-গম-ভুট্টা-সয়াবিন-আলু থেকে খাদ্য প্রস্তুত ও সংরক্ষণ, খাদ্যে ভেজাল এবং প্যাকেজিং।
- ফিশ কালচার অ্যান্ড ব্রিডিং/শ্রিম্প কালচার অ্যান্ড ব্রিডিং (২০৪): মাছ ও চিংড়ির পরিচিতি, চাষ ও প্রজনন, পুকুর ও হ্যাচারি ব্যবস্থাপনা, মিশ্র ও সমন্বিত মাছ চাষ, খাদ্য ও রোগব্যবস্থাপনা, সংরক্ষণ এবং বাজারজাতকরণ।
- পোলট্রি রিয়ারিং অ্যান্ড ফার্মিং (২০৫): হাঁস-মুরগির জাত, খামার স্থাপন, খাদ্য ও পুষ্টি, প্রজনন, ডিম উৎপাদন ও সংরক্ষণ, হ্যাচারি, রোগ প্রতিরোধ ও টিকাদান।
- ফুল, ফল ও সবজি চাষ (২০৬): সবজি ও ফলের শ্রেণিবিন্যাস, মাটি ও বীজ ব্যবস্থাপনা, চারা উৎপাদন, বংশবিস্তার, সার ও সেচ, রোগ-পোকা দমন, ফলবাগান ব্যবস্থাপনা, ফসল সংগ্রহ ও বাজারজাতকরণ।
- ফুড প্রসেসিং অ্যান্ড প্রিজারভেশন (২০৭) এবং ফুড প্রসেসিং (২২৫): খাদ্যবিজ্ঞান ও পুষ্টি, Food Safety, HACCP, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, Bakery ও Confectionery, Dairy Products, খাদ্য সংরক্ষণ, Food Analysis, Packaging, Food Adulteration, Toxicology এবং Process Control।
- লাইভস্টক রিয়ারিং অ্যান্ড ফার্মিং (২২০): গবাদিপশুর জাত ও জাত উন্নয়ন, প্রাকৃতিক ও কৃত্রিম প্রজনন, খাদ্য ব্যবস্থাপনা, খামার পরিকল্পনা, রোগ প্রতিরোধ, দুগ্ধ উৎপাদন এবং ছাগল-মহিষ-ভেড়া পালন।
- পেশেন্ট কেয়ার টেকনিক (২২১): মানবদেহের অঙ্গতন্ত্র, শ্বাস ও পরিপাকতন্ত্র, প্রাথমিক চিকিৎসা, নার্সিং, কমিউনিটি স্বাস্থ্যসেবা, অণুজীব, সংক্রমণ, ওষুধ, পুষ্টি এবং রোগীর পরিচর্যা।
ইলেকট্রিক্যাল, ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি ট্রেড
- জেনারেল ইলেকট্রিক্যাল ওয়ার্কস/ইলেকট্রিক্যাল মেইনটেন্যান্স ওয়ার্কস (২০৮) এবং জেনারেল ইলেকট্রিক্যাল ওয়ার্কস (২২৭): Current, Voltage, Resistance, Electrical Circuit, House Wiring, সুরক্ষা যন্ত্র, Circuit Testing, Communication System, Lighting, Motor, Transformer, Earthing, IPS, UPS, Solar System ও গৃহস্থালি বৈদ্যুতিক যন্ত্রের রক্ষণাবেক্ষণ।
- জেনারেল ইলেকট্রনিক্স (২০৯) এবং জেনারেল ইলেকট্রনিক্স ওয়ার্কস (২২৮): Electronic Circuit, Semiconductor, Diode, Power Supply, Amplifier, Electronic Home Appliances, Internet ও Cable TV, Television System, Smartphone, Sensor, Instrumentation এবং Advanced Communication System।
- রেফ্রিজারেশন অ্যান্ড এয়ার কন্ডিশনিং (২১২): Refrigeration Cycle, Compressor, Condenser, Evaporator, Refrigerant, বৈদ্যুতিক ও ইলেকট্রনিক্স কম্পোনেন্ট, AC Servicing, Inverter Refrigeration, Cooling Load Calculation এবং যন্ত্রের রক্ষণাবেক্ষণ।
- কম্পিউটার ও তথ্যপ্রযুক্তি (২১৪) এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (২২৯): Analog ও Digital System, Number System, Logic Gate, Boolean Algebra, Digital Circuit, Memory, Computer Architecture, Microprocessor, Networking, Data Transmission, Data Structure, C Programming, Operating System, DBMS, Application Software, Graphics, Multimedia, Internet ও Outsourcing।
মেকানিক্যাল, নির্মাণ ও অন্যান্য কারিগরি ট্রেড
- অটোমোটিভ (২১০): ইঞ্জিনের গঠন ও কার্যপদ্ধতি, Fuel System, Cooling ও Lubrication System, Transmission, Clutch, Gearbox, Steering, Suspension, Brake, Battery, Electrical System এবং ট্রাফিক আইন।
- ফার্ম মেশিনারি (২১১): ওয়ার্কশপ নিরাপত্তা, Hand ও Measuring Tools, Welding, Pipe Fitting, Irrigation Pump, Diesel ও Petrol Engine, Power Tiller, Tractor, Tillage Implements, Harvesting ও Post-harvesting Machinery।
- বিল্ডিং মেইনটেন্যান্স/সিভিল কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড সেফটি (২১৩) এবং সিভিল কনস্ট্রাকশন (২২৬): Workshop Safety, Construction Materials, Brick Masonry, Concrete, Building Structure, Estimating ও Costing, Surveying, Applied Mechanics, Structural Design এবং Painting ও Finishing।
- জেনারেল মেকানিক্স (২১৫): Workshop Safety, Mechanical Tools, Metal ও Heat Treatment, Cutting, Drilling, Turning, Milling, Welding, Drawing, Estimating, Lubricant, Jig, Fixture, Fit ও Tolerance।
- ওয়েল্ডিং অ্যান্ড ফেব্রিকেশন (২১৬): Welding Process, Welding Position, Joint Preparation, Welding Defects, Gas ও Arc Welding, TIG, MIG, Seam ও Submerged Arc Welding এবং Welding Testing।
- ড্রেস মেকিং (২১৭): Fibres, Yarn, Fabric, Dyeing, Printing, Garment Classification, Pattern Making, Fabric Cutting, Sewing Machine, Stitch, Seam, Garment Sewing, Pressing ও Finishing।
- সিভিল ড্রাফটিং উইথ CAD (২১৮): Engineering Drawing, Scale, Projection, Building Plan, Elevation, Section, Structural Drawing, AutoCAD Commands, 2D ও 3D Drawing, Rendering এবং Printing।
- মেকানিক্যাল ড্রাফটিং উইথ CAD (২১৯): Mechanical Drawing, Scale, Projection, Sectional Drawing, Surface Development, Fastener, Fit ও Tolerance, Gear, Spring, Welding Symbol, AutoCAD ও 3D Modeling।
- প্লাম্বিং অ্যান্ড পাইপ ফিটিং (২২২): Plumbing Tools, Pipe ও Pipe Fittings, Plumbing Safety, Sanitary System, Sewer Line, Septic Tank, Valve Repair, Welding, Building Materials ও Pump।
- আর্কিটেকচারাল ড্রাফটিং উইথ CAD (২২৩): Drafting Tools, Freehand Drawing, Scale, Building Materials, Building Components, Architectural Plan, Section, Elevation, Residential Building, Building Rules, Surveying, AutoCAD 2D ও 3D Rendering।
স্কুল পর্যায়-২ লিখিত পরীক্ষার প্রশ্নের ধরন
সংযুক্ত লিখিত সিলেবাস অনুযায়ী বিষয়ভেদে প্রশ্নের ধরন আলাদা। গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি মানবণ্টন হলো:
| বিষয় বা পরীক্ষার ধরন | মানবণ্টন |
| ভাষা – জুনিয়র শিক্ষক (২০১) | বাংলা ৫০ + ইংরেজি ৫০ |
| ইবতেদায়ি মৌলভী (২০২) | কুরআন ৪০ + তাজবিদ ২০ + আরবি ২০ + ফিকহ ২০ |
| ইবতেদায়ি ক্বারী (২২৪) | কুরআন-হাদিস-ফিকহ ৪০ + তাজবিদ ৬০ |
| নির্ধারিত কয়েকটি কারিগরি ট্রেড | সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ৪০ + রচনামূলক প্রশ্ন ৬০ |
| ইউনিটভিত্তিক নির্ধারিত ট্রেড | ১০টি ইউনিটে ১০ নম্বর করে মোট ১০০ |
কারিগরি ট্রেডগুলোর মধ্যে অনেক বিষয়ে ২০ শতাংশ নম্বর উচ্চতর দক্ষতাভিত্তিক প্রশ্নের জন্য নির্ধারণের নির্দেশনাও রয়েছে। ফলে শুধু সংজ্ঞা মুখস্থ করলেই যথেষ্ট নয়; প্রশ্নের ধরন অনুযায়ী ব্যাখ্যা, প্রয়োগ ও সমস্যা সমাধানের প্রস্তুতিও নিতে হবে।
স্কুল পর্যায়-২ লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতির পরামর্শ
লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতির ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো নিজের পদের সঠিক বিষয় কোড অনুযায়ী সিলেবাস অনুসরণ করা। কারণ, একই পর্যায়ের অন্তর্ভুক্ত হলেও জুনিয়র শিক্ষক, ইবতেদায়ি মৌলভী, ক্বারী এবং ট্রেড ইন্সট্রাক্টর পদের প্রশ্নের বিষয়বস্তু ও মানবণ্টন ভিন্ন।
প্রস্তুতি নেওয়ার সময় নিচের বিষয়গুলো অনুসরণ করতে পারেন:
- জুনিয়র শিক্ষক: বাংলা ও ইংরেজির জন্য আলাদা প্রস্তুতি পরিকল্পনা তৈরি করুন। ব্যাকরণের পাশাপাশি অনুবাদ, পত্র, প্রতিবেদন, সারাংশ ও Comprehension লিখে অনুশীলন করুন।
- ইবতেদায়ি মৌলভী ও ক্বারী: নির্ধারিত সূরা, হাদিস, আরবি ব্যাকরণ, ফিকহ ও তাজবিদের কায়দা উদাহরণসহ পড়ুন। কুরআনের আয়াত থেকে কায়দা শনাক্তকরণ ও ব্যাখ্যা অনুশীলন করুন।
- কারিগরি ট্রেড ইন্সট্রাক্টর: সিলেবাসের প্রতিটি ইউনিট অনুযায়ী সংজ্ঞা, যন্ত্রাংশের গঠন, কার্যপদ্ধতি, চিত্র, হিসাব ও সমস্যা সমাধান অনুশীলন করুন।
- সব বিষয়ের প্রার্থী: বিগত লিখিত পরীক্ষার প্রশ্ন সমাধান করুন এবং ৩ ঘণ্টার মধ্যে উত্তর লেখার অভ্যাস গড়ে তুলুন।
কলেজ পর্যায় শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার সিলেবাস
যারা কলেজ, উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়, মাদরাসা কিংবা সংশ্লিষ্ট অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রভাষক বা সমমানের পদে শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে চান, তাদের কলেজ পর্যায়ের জন্য নির্ধারিত সিলেবাস অনুযায়ী প্রস্তুতি নিতে হবে।
কলেজ পর্যায়ের শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার প্রস্তুতি শুরু করার আগে প্রিলিমিনারি ও লিখিত পরীক্ষার সিলেবাসের পার্থক্য বুঝে নেওয়া জরুরি। কেননা, প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় সকল প্রার্থীকে একই চারটি সাধারণ বিষয়ের ওপর পরীক্ষা দিতে হলেও লিখিত পরীক্ষায় নিজ নিজ একাডেমিক বিষয়ের ওপর প্রশ্ন করা হয়।
সর্বশেষ শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা – এর কলেজ পর্যায়ের সিলেবাস অনুযায়ী, প্রিলিমিনারি পরীক্ষার বিষয় কোড ৪০০। এই পরীক্ষার পূর্ণমান ১০০ এবং সময় ১ ঘণ্টা। বাংলা, ইংরেজি, সাধারণ গণিত ও সাধারণ জ্ঞান – প্রতিটি বিষয়ে ২৫ নম্বর করে বরাদ্দ রয়েছে।
নিম্নে কলেজ পর্যায়ের প্রিলিমিনারি পরীক্ষার বিষয়ভিত্তিক সিলেবাস ও মানবণ্টন দেওয়া হলো।
| বিষয় | নম্বর |
| বাংলা | ২৫ |
| ইংরেজি | ২৫ |
| সাধারণ গণিত | ২৫ |
| সাধারণ জ্ঞান | ২৫ |
| মোট | ১০০ |
কলেজ পর্যায়ের বাংলা সিলেবাস – ২৫ নম্বর
কলেজ পর্যায়ের শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার বাংলা অংশে মূলত বাংলা ব্যাকরণ, ভাষার শুদ্ধ ব্যবহার, অনুবাদ এবং প্রয়োগমূলক বিষয় থেকে প্রশ্ন করা হয়।
সিলেবাসে অন্তর্ভুক্ত বিষয়গুলো হলো:
- ভাষারীতি ও বিরামচিহ্নের ব্যবহার
- বাগধারা ও বাগবিধি
- ভুল সংশোধন বা শুদ্ধকরণ
- যথার্থ অনুবাদ ও শিরোনাম নির্বাচন
- সন্ধিবিচ্ছেদ
- কারক ও বিভক্তি
- সমাস
- প্রত্যয় বিন্যাস
- সমার্থক ও বিপরীতার্থক শব্দ
- বিরামচিহ্ন, বাগধারা, সন্ধি, কারক, সমাস ও প্রত্যয়ের প্রায়োগিক ব্যবহার
বাংলা অংশের প্রস্তুতিতে শুধু ব্যাকরণের সংজ্ঞা বা নিয়ম মুখস্থ করলে হবে না, সেগুলোর সঠিক প্রয়োগও জানতে হবে। যেমন, সন্ধি ও সমাসের নিয়ম জানার পাশাপাশি শব্দের সন্ধিবিচ্ছেদ ও সমাস নির্ণয়ের অনুশীলন করতে হবে। একইভাবে কারক-বিভক্তি, প্রত্যয় এবং বাক্য শুদ্ধকরণের নিয়মগুলো উদাহরণসহ আয়ত্ত করা প্রয়োজন।
এছাড়া যথার্থ অনুবাদ ও শিরোনাম নির্বাচনের মতো বিষয়গুলোও সিলেবাসে রয়েছে। তাই বিগত সালের প্রশ্ন সমাধানের পাশাপাশি নিয়মিত বাংলা ব্যাকরণ ও প্রয়োগভিত্তিক MCQ অনুশীলন করলে প্রস্তুতির দুর্বল জায়গাগুলো শনাক্ত করা সহজ হবে।
কলেজ পর্যায়ের ইংরেজি সিলেবাস – ২৫ নম্বর
কলেজ পর্যায়ের ইংরেজি সিলেবাসে Grammar-এর বিভিন্ন নিয়মের পাশাপাশি বাক্যের সঠিক গঠন, ভুল শনাক্তকরণ, অনুবাদ এবং উপযুক্ত শব্দ নির্বাচনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
ইংরেজি অংশে নির্ধারিত বিষয়গুলো হলো:
- Errors in Composition
- Fill in the Blanks with Appropriate Preposition
- Uses of Articles and Verbs
- Identify Appropriate Translation from Bengali to English
- Identify Appropriate Title from Story or Article
- Transformation of Sentences
- Synonyms and Antonyms
- Completing Sentences
- Idioms and Phrases
এই অংশের প্রস্তুতিতে Errors in Composition, Preposition, Articles, Verbs এবং Transformation of Sentences ভালোভাবে অনুশীলন করা প্রয়োজন। কারণ, এসব টপিকে Grammar-এর নিয়ম জানার পাশাপাশি বাক্যের অর্থ ও গঠন অনুযায়ী সঠিক উত্তর নির্বাচন করার দক্ষতা তৈরি করে।
অন্যদিকে, Synonyms and Antonyms এবং Idioms and Phrases-এর জন্য নিয়মিত Vocabulary চর্চা করতে হবে। বাংলা থেকে ইংরেজিতে যথার্থ অনুবাদ শনাক্তকরণ এবং গল্প বা প্রবন্ধের উপযুক্ত শিরোনাম নির্বাচনের জন্য বাক্যের অর্থ বোঝার অভ্যাসও গড়ে তুলতে হবে।
এক্ষেত্রে নিয়মগুলো অধ্যায়ভিত্তিক পড়ার পর সংশ্লিষ্ট MCQ সমাধান করতে পারেন। এতে কোন ধরনের Grammar বা Vocabulary প্রশ্নে বেশি ভুল হচ্ছে, তা বুঝতে সুবিধা হবে।
কলেজ পর্যায়ের সাধারণ গণিত সিলেবাস – ২৫ নম্বর
কলেজ পর্যায়ের সাধারণ গণিতের সিলেবাসকে তিনটি প্রধান অংশে ভাগ করা হয়েছে। যথা – পাটিগণিত, বীজগণিত ও জ্যামিতি।
১. পাটিগণিত
পাটিগণিত অংশে নির্ধারিত বিষয়গুলো হলো:
- গড়
- ঐকিক নিয়ম
- ল.সা.গু. ও গ.সা.গু.
- শতকরা
- সুদকষা
- লাভ-ক্ষতি
- পাটিগণিতের সংশ্লিষ্ট সূত্র ও নিয়মের প্রয়োগ
২. বীজগণিত
বীজগণিত অংশে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে:
- উৎপাদক
- বর্গ ও ঘনসংক্রান্ত সূত্রাবলি এবং প্রয়োগ
- গ.সা.গু.
- বাস্তব সমস্যা সমাধানে বীজগাণিতিক সূত্র গঠন ও প্রয়োগ
- সূচক ও লগারিদমের সূত্র এবং প্রয়োগ
- অনুপাত ও সমানুপাত
৩. জ্যামিতি
জ্যামিতি অংশে মূলত পরিমিতি ও ত্রিকোণমিতি সম্পর্কিত সাধারণ ধারণা, নিয়ম এবং প্রয়োগ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
সাধারণ গণিতের প্রস্তুতিতে প্রথমে প্রতিটি অধ্যায়ের প্রয়োজনীয় সূত্র ও নিয়ম ভালোভাবে বুঝে নিতে হবে। এরপর একই সূত্রের বিভিন্ন ধরনের অঙ্ক সমাধান করার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। বিশেষ করে বীজগাণিতিক সূত্রের প্রয়োগ, সূচক-লগারিদম এবং পরিমিতি ও ত্রিকোণমিতির অঙ্কগুলো আলাদাভাবে অনুশীলন করা প্রয়োজন।
উল্লেখ্য, কলেজ পর্যায়ের সাধারণ গণিত সিলেবাসে পরিমিতি ও ত্রিকোণমিতি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তাই অন্য কোনো চাকরির পরীক্ষার জন্য গণিত প্রস্তুতি নেওয়া থাকলেও কলেজ পর্যায়ের মূল সিলেবাসের সঙ্গে মিলিয়ে এই অধ্যায়গুলো রিভিশন করতে হবে।
কলেজ পর্যায়ের সাধারণ জ্ঞান সিলেবাস – ২৫ নম্বর
কলেজ পর্যায়ের শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার সাধারণ জ্ঞান অংশে বাংলাদেশ, আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি, সাম্প্রতিক ঘটনাবলি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
মূল সিলেবাস অনুযায়ী সাধারণ জ্ঞানকে তিনটি প্রধান ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে।
১. বাংলাদেশ সম্পর্কিত বিষয়
এই অংশে বাংলাদেশের ভূপ্রকৃতি, জলবায়ু, পরিবেশ, ইতিহাস, ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের পাশাপাশি দেশের অর্থনীতি, সম্পদ ও রাষ্ট্রব্যবস্থা সম্পর্কে পড়তে হবে।
গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে:
- বাংলাদেশের ইতিহাস, ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধ
- বাংলাদেশের ভূপ্রকৃতি, জলবায়ু, সভ্যতা ও সংস্কৃতি
- বাংলাদেশের অর্থনীতি, কৃষি, শিল্প ও প্রাকৃতিক সম্পদ
- যোগাযোগব্যবস্থা ও সমাজজীবন
- জনমিতিক পরিচয় ও সামাজিক সমস্যা
- রাষ্ট্র, নাগরিকতা, সরকার ও রাজনীতি
- জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনা ও কর্মসূচি
- শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং মানবসম্পদ উন্নয়ন
২. আন্তর্জাতিক বিষয় ও চলতি ঘটনাবলি
আন্তর্জাতিক অংশে বিশ্বের ভৌগোলিক পরিচিতি, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, বিভিন্ন সংস্থা এবং গুরুত্বপূর্ণ সাম্প্রতিক ঘটনাবলি সম্পর্কে ধারণা থাকতে হবে।
এই অংশের উল্লেখযোগ্য বিষয়গুলো হলো:
- বিশ্বের ভূগোল ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক
- জাতিসংঘ ও এর কার্যক্রম
- আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক সংস্থা
- আন্তর্জাতিক মুদ্রা সংস্থা ও অর্থনৈতিক সংগঠন
- আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও চলতি ঘটনাবলি
- গুরুত্বপূর্ণ পুরস্কার ও সম্মাননা
- জলবায়ু পরিবর্তন, দুর্যোগ ও নবায়নযোগ্য শক্তি
৩. বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, পরিবেশ ও রোগব্যাধি
এখানে মূলত দৈনন্দিন জীবনে বিজ্ঞানের ব্যবহার এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির মৌলিক বিষয়গুলো সম্পর্কে প্রশ্ন করা হয়।
সিলেবাসের অন্তর্ভুক্ত বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে:
- পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন ও জীববিজ্ঞানের মৌলিক ধারণা
- প্রাত্যহিক জীবনে বিজ্ঞানের ব্যবহার
- তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (ICT)
- স্বাস্থ্য ও চিকিৎসাবিষয়ক সাধারণ জ্ঞান
- সাধারণ রোগব্যাধি
- পরিবেশবিজ্ঞান ও পরিবেশসংক্রান্ত সমস্যা
সাধারণ জ্ঞানের প্রস্তুতিতে বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলির স্থায়ী তথ্যের পাশাপাশি সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোও নিয়মিত পড়তে হবে। তবে সাম্প্রতিক তথ্য পড়ার সময় সেগুলোর সময়কাল ও নির্ভরযোগ্য উৎস যাচাই করা জরুরি।
এছাড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অংশে শুধু সংজ্ঞা মুখস্থ না করে দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে সম্পর্কিত মৌলিক ধারণাগুলো বুঝে পড়ার চেষ্টা করুন।
শিক্ষক নিবন্ধন লিখিত পরীক্ষার সিলেবাস
শিক্ষক নিবন্ধন প্রিলিমিনারি পরীক্ষার সিলেবাস সম্পর্কে জানার পর এবার লিখিত পরীক্ষার বিষয়ভিত্তিক সিলেবাস সম্পর্কে আলোচনা করা যাক।
প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় বাংলা, ইংরেজি, সাধারণ গণিত ও সাধারণ জ্ঞান পড়তে হলেও লিখিত পরীক্ষায় প্রার্থীর নির্বাচিত বিষয়ের জন্য নির্ধারিত সিলেবাস অনুসরণ করতে হয়।
অর্থাৎ প্রিলিমিনারি ও লিখিত পরীক্ষার সিলেবাস সম্পূর্ণ আলাদা।
উদাহরণস্বরূপ, আপনি যদি কলেজ পর্যায়ে গণিত বিষয়ের প্রার্থী হন, তাহলে প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় অন্যান্য প্রার্থীর মতো চারটি সাধারণ বিষয়ের ওপর পরীক্ষা দিতে হবে। কিন্তু লিখিত পরীক্ষার জন্য গণিতের নির্ধারিত বিষয়ভিত্তিক সিলেবাস অনুযায়ী প্রস্তুতি নিতে হবে।
একইভাবে বাংলা, ইংরেজি, অর্থনীতি, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, পদার্থবিদ্যা, রসায়ন কিংবা অন্য যেকোনো বিষয়ের প্রার্থীদের লিখিত পরীক্ষায় সংশ্লিষ্ট বিষয়ের জন্য নির্ধারিত টপিকগুলো পড়তে হবে।
সর্বশেষ শিক্ষক নিবন্ধনের কলেজ পর্যায়ের সিলেবাসে লিখিত পরীক্ষার পূর্ণমান ১০০ নম্বর নির্ধারিত ছিল।
কলেজ পর্যায়ের লিখিত পরীক্ষার বিষয় ও বিষয় কোড
শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার লিখিত প্রস্তুতি শুরু করার আগে নিজের বিষয়ের সঠিক বিষয় কোড জেনে নেওয়া প্রয়োজন। কারণ, একই কলেজ পর্যায়ের পরীক্ষায় বিভিন্ন বিষয়ের জন্য আলাদা সিলেবাস নির্ধারিত রয়েছে।
নিচে সর্বশেষ শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা-এর কলেজ পর্যায়ের মূল সিলেবাসে অন্তর্ভুক্ত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের নাম ও বিষয় কোড দেওয়া হলো।
| বিষয় | বিষয় কোড |
| বাংলা | ৪০১ |
| ইংরেজি | ৪০২ |
| অর্থনীতি | ৪০৩ |
| রাষ্ট্রবিজ্ঞান | ৪০৪ |
| ইতিহাস | ৪০৫ |
| ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি | ৪০৬ |
| দর্শন | ৪০৭ |
| সমাজবিজ্ঞান | ৪০৮ |
| সমাজকল্যাণ/সমাজকর্ম | ৪০৯ |
| মনোবিজ্ঞান | ৪১০ |
| সংস্কৃত | ৪১১ |
| পদার্থবিদ্যা | ৪১২ |
| রসায়ন | ৪১৩ |
| গণিত | ৪১৪ |
| প্রাণিবিদ্যা | ৪১৫ |
| উদ্ভিদবিজ্ঞান | ৪১৬ |
| ভূগোল ও পরিবেশ বিজ্ঞান | ৪১৭ |
| পরিসংখ্যান | ৪১৮ |
| মৃত্তিকাবিজ্ঞান | ৪১৯ |
| গার্হস্থ্য অর্থনীতি | ৪২০ |
| ব্যবস্থাপনা | ৪২১ |
| হিসাববিজ্ঞান | ৪২২ |
| বিপণন | ৪২৩ |
| ফিন্যান্স | ৪২৪ |
| কম্পিউটার বিজ্ঞান | ৪৩১ |
| তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি | ৪৫২ |
উল্লেখ্য, এটি কলেজ পর্যায়ের সকল বিষয়ের পূর্ণাঙ্গ তালিকা নয়। এখানে কয়েকটি নির্বাচিত বিষয়ের কোড তুলে ধরা হয়েছে, যাতে প্রার্থীরা বিষয়ভিত্তিক লিখিত সিলেবাসের কাঠামো সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা পান।
গুরুত্বপূর্ণ: উপরের বিষয় কোডগুলো সর্বশেষ শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার সিলেবাস থেকে নেওয়া হয়েছে। ১৯তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় বিষয় সংযোজন, বাদ দেওয়া কিংবা কোড পরিবর্তন হয়েছে কিনা জানতে প্রস্তুতির আগে NTRCA-এর সর্বশেষ প্রকাশিত সিলেবাস ও বিষয় তালিকার সঙ্গে মিলিয়ে নিতে হবে।
কলেজ পর্যায়ের বিষয়ভিত্তিক লিখিত পরীক্ষার সিলেবাস
কলেজ পর্যায়ের লিখিত পরীক্ষায় সাধারণত প্রার্থীর নির্বাচিত একাডেমিক বিষয়ের ওপর প্রশ্ন করা হয়। তবে কোন বিষয়ে কী কী অধ্যায় পড়তে হবে এবং কোন অংশের জন্য কত নম্বর বরাদ্দ রয়েছে, তা সংশ্লিষ্ট বিষয়ের নির্ধারিত সিলেবাসের ওপর নির্ভর করে।
নিম্নে সর্বশেষ শিক্ষক নিবন্ধনের কলেজ পর্যায়ের লিখিত সিলেবাস অনুযায়ী কয়েকটি বিষয়ের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় সম্পর্কে সংক্ষেপে আলোচনা করা হলো।
১. বাংলা (বিষয় কোড ৪০১)
বাংলা বিষয়ের লিখিত সিলেবাসে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের ইতিহাস, নির্ধারিত কবি-সাহিত্যিকদের জীবনী ও উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্ম, বিভিন্ন সাহিত্যধারা, বাংলা ব্যাকরণ ও রচনাসংক্রান্ত বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এছাড়া পদাবলি, মঙ্গলকাব্য, মহাকাব্য, গীতিকবিতা, উপন্যাস, নাটক, ছোটগল্প, ছন্দ, অলংকার, বানানের নিয়ম এবং বাংলাদেশের সাহিত্য সম্পর্কে পড়তে হবে।
২. ইংরেজি (বিষয় কোড ৪০২)
ইংরেজি বিষয়ের লিখিত সিলেবাসে History of English Literature, Literary Terms, Figures of Speech এবং নির্ধারিত ইংরেজি সাহিত্যিকদের গুরুত্বপূর্ণ সাহিত্যকর্ম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
পাশাপাশি Formal Letter, Summary Writing ও Grammar-এর নির্দিষ্ট অংশ রয়েছে। বিশেষ করে Elizabethan Period থেকে Modern Period পর্যন্ত ইংরেজি সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য সাহিত্যিক, সাহিত্যধারা ও গুরুত্বপূর্ণ রচনা সম্পর্কে ধারণা থাকা প্রয়োজন।
৩. অর্থনীতি (বিষয় কোড ৪০৩)
অর্থনীতি বিষয়ের সিলেবাস মূলত Microeconomics ও Macroeconomics – এই দুটি প্রধান অংশে বিভক্ত।
Microeconomics অংশে চাহিদা ও যোগান, ভোক্তার আচরণ, উৎপাদন ও ব্যয় তত্ত্ব, বাজারব্যবস্থা এবং বাজারের ভারসাম্য অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
অন্যদিকে Macroeconomics অংশে জাতীয় আয়, ভোগ ও সঞ্চয়, মুদ্রাস্ফীতি, মুদ্রা ও ব্যাংকব্যবস্থা, মুদ্রানীতি এবং রাজস্বনীতি সম্পর্কে পড়তে হবে।
৪. পদার্থবিদ্যা (বিষয় কোড ৪১২)
পদার্থবিদ্যা বিষয়ের লিখিত সিলেবাসে ভেক্টর, গতি, বল ও শক্তি, মহাকর্ষ, পদার্থের ধর্ম, তাপগতিবিদ্যা, তড়িৎচুম্বকত্ব, তরঙ্গ, আলোকবিজ্ঞান, আপেক্ষিকতা, পরমাণু পদার্থবিদ্যা, কোয়ান্টাম মেকানিকস, নিউক্লিয়ার ফিজিকস, ইলেকট্রনিকস এবং প্রোগ্রামিং অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
সর্বশেষ শিক্ষক নিবন্ধনের সিলেবাস অনুযায়ী পদার্থবিদ্যার লিখিত পরীক্ষা ১০টি ইউনিটে বিভক্ত। প্রতিটি ইউনিটের জন্য ১০ নম্বর করে মোট ১০০ নম্বর নির্ধারিত রয়েছে।
এখানে তাত্ত্বিক জ্ঞানের পাশাপাশি গাণিতিক সমস্যা সমাধান ও বিভিন্ন সূত্রের প্রয়োগের ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে।
৫. রসায়ন (বিষয় কোড ৪১৩)
রসায়ন বিষয়ের লিখিত সিলেবাসে সাতটি প্রধান অংশ রয়েছে:
- Physical Chemistry – ২০ নম্বর
- Inorganic Chemistry – ২০ নম্বর
- Organic Chemistry – ২০ নম্বর
- Environmental Chemistry – ১০ নম্বর
- Industrial Chemistry – ১০ নম্বর
- Analytical Chemistry – ১০ নম্বর
- Polymer Chemistry – ১০ নম্বর
অর্থাৎ এই সিলেবাসে প্রথম তিনটি অংশে মোট ৬০ নম্বর এবং বাকি চারটি অংশে মোট ৪০ নম্বর বরাদ্দ রয়েছে।
তাই রসায়ন বিষয়ের প্রস্তুতির ক্ষেত্রে শুধু গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়গুলো পড়লেই হবে না, সিলেবাসের প্রতিটি অংশের মানবণ্টন অনুযায়ী প্রস্তুতির পরিকল্পনা করতে হবে।
৬. গণিত (বিষয় কোড ৪১৪)
গণিত বিষয়ের লিখিত সিলেবাসে বাস্তব ও জটিল সংখ্যা, সেট ও ফাংশন, সমীকরণ তত্ত্ব, ম্যাট্রিক্স, রৈখিক রূপান্তর, দ্বিমাত্রিক ও ত্রিমাত্রিক জ্যামিতি, ক্যালকুলাস, ডিফারেনশিয়াল ইকুয়েশন, Fortran Programming, Numerical Analysis এবং Linear Programming অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
সর্বশেষ শিক্ষক নিবন্ধনের সিলেবাসে গণিতের জন্য ১০টি ইউনিট নির্ধারিত রয়েছে এবং প্রতিটি ইউনিটের জন্য ১০ নম্বর করে বরাদ্দ রয়েছে।
এক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সূত্র ও উপপাদ্য বোঝার পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের গাণিতিক সমস্যা সমাধানের দক্ষতা অর্জন করতে হবে।
৭. প্রাণিবিদ্যা (বিষয় কোড ৪১৫)
প্রাণিবিদ্যা বিষয়ের লিখিত সিলেবাসে প্রাণীর বৈচিত্র্য ও শ্রেণিবিন্যাস, কোষবিদ্যা, মানব শারীরতত্ত্ব, প্রজনন ও ভ্রূণবিদ্যা, বংশগতিবিদ্যা, বিবর্তন, জীবপ্রযুক্তি, পরজীবীবিদ্যা, অণুজীববিজ্ঞান, পরিবেশবিদ্যা এবং Biostatistics অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এছাড়া Applied Zoology, Immunology, Ethology ও Zoogeography-এর বিভিন্ন বিষয় পড়তে হবে।
সিলেবাসে মোট ১০টি ইউনিট রয়েছে, যার প্রতিটির জন্য ১০ নম্বর নির্ধারিত।
৮. উদ্ভিদবিজ্ঞান (বিষয় কোড ৪১৬)
উদ্ভিদবিজ্ঞান বিষয়ের লিখিত সিলেবাসে Microbiology, Mycology, Plant Pathology, Phycology, Plant Ecology, Biodiversity, Bryophyta, Pteridophyta, Gymnosperm, Palaeobotany, Plant Anatomy, Plant Physiology, Genetics, Biotechnology, Biostatistics, Horticulture ও Plant Breeding-সহ বিভিন্ন বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
সর্বশেষ নিবন্ধনের উদ্ভিদবিজ্ঞান সিলেবাসও ১০টি ইউনিটে বিভক্ত, যেখানে প্রতিটি ইউনিটের জন্য ১০ নম্বর বরাদ্দ রয়েছে।
উপরের বিষয়গুলো কলেজ পর্যায়ের লিখিত পরীক্ষার সিলেবাস সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা দেওয়ার জন্য সংক্ষেপে তুলে ধরা হয়েছে। এগুলো সংশ্লিষ্ট বিষয়ের পূর্ণাঙ্গ সিলেবাসের বিকল্প নয়।
কলেজ পর্যায়ের লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতিতে কীভাবে সিলেবাস অনুসরণ করবেন?
লিখিত পরীক্ষার সিলেবাস সম্পর্কে জানার পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো নির্ধারিত বিষয়গুলো অনুযায়ী প্রস্তুতির পরিকল্পনা করা।
প্রথমেই আপনার নির্বাচিত বিষয়ের সম্পূর্ণ সিলেবাস সংগ্রহ করে অধ্যায়গুলো ভালোভাবে দেখে নিন। যেসব বিষয়ে ইউনিটভিত্তিক মানবণ্টন রয়েছে, সেগুলো আলাদা করে চিহ্নিত করুন। এরপর কোন অধ্যায়ে আপনার প্রস্তুতি ভালো এবং কোন অধ্যায়ে আরও সময় দেওয়া প্রয়োজন, তা নির্ধারণ করুন।
বিশেষ করে বিজ্ঞান ও গণিতের মতো বিষয়ে শুধু তাত্ত্বিক আলোচনা পড়লে হবে না। সূত্রের প্রয়োগ, সমস্যার সমাধান, বিশ্লেষণধর্মী প্রশ্ন এবং সিলেবাসে উল্লেখিত Learning Outcome বা Assessment Target অনুযায়ী অনুশীলন করতে হবে।
অন্যদিকে বাংলা, ইংরেজি, ইতিহাস, অর্থনীতি কিংবা অন্যান্য তত্ত্বভিত্তিক বিষয়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ধারণা, বিষয়ভিত্তিক আলোচনা এবং প্রাসঙ্গিক উদাহরণ গুছিয়ে পড়ার অভ্যাস তৈরি করুন।
সবশেষে বিগত সালের লিখিত প্রশ্ন পর্যালোচনা করে প্রশ্নের ধরন সম্পর্কে ধারণা নিতে পারেন। তবে শুধু বিগত প্রশ্নের ওপর নির্ভর না করে নির্ধারিত সিলেবাসের সব অংশের প্রস্তুতি নেওয়াই উত্তম।
১৮তম ও ১৯তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার সিলেবাস
যারা ১৯তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় অংশগ্রহণের পরিকল্পনা করছেন, তারা স্বাভাবিকভাবেই জানতে চাইবেন – ১৮তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার সিলেবাস অনুসরণ করেই কি পরবর্তী পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া যাবে?
এক্ষেত্রে প্রথমেই জানা প্রয়োজন, ১৮তম শিক্ষক নিবন্ধনের প্রিলিমিনারি পরীক্ষার পর NTRCA স্কুল, স্কুল পর্যায়-২ ও কলেজ পর্যায়ের জন্য লিখিত পরীক্ষার সিলেবাস প্রকাশ করেছিল।
পরবর্তী পরীক্ষার জন্য নতুন সিলেবাস আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত না হওয়া পর্যন্ত এই প্রকাশিত সিলেবাসগুলো প্রস্তুতির একটি কার্যকর ভিত্তি হিসেবে অনুসরণ করতে পারেন।
তবে এটিকে ১৯তম শিক্ষক নিবন্ধনের চূড়ান্ত বা নতুনভাবে অনুমোদিত সিলেবাস মনে করা ঠিক হবে না। কারণ পরীক্ষার পদ্ধতি, বিষয় কোড, মানবণ্টন এবং বিষয়ভিত্তিক সিলেবাস কর্তৃপক্ষের নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরিবর্তিত হতে পারে।
পরবর্তী নিবন্ধনের জন্য আপনার করণীয়: এখন থেকেই বাংলা, ইংরেজি, সাধারণ গণিত ও সাধারণ জ্ঞানের প্রচলিত টপিকগুলো শেষ করতে পারেন। একই সাথে নিজের নির্বাচিত বিষয়ের লিখিত প্রস্তুতি শুরু রাখুন। নতুন বিজ্ঞপ্তি বা সংশোধিত সিলেবাস প্রকাশিত হলে পুরোনো ও নতুন সিলেবাস মিলিয়ে যে অংশগুলো পরিবর্তিত হয়েছে, সেগুলোকে অগ্রাধিকার দিন।
শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার সিলেবাস অনুযায়ী প্রস্তুতি যেভাবে শুরু করবেন
এতক্ষণ আমরা শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার প্রিলিমিনারি ও লিখিত পরীক্ষার সিলেবাস সম্পর্কে আলোচনা করেছি। এবার সিলেবাস অনুসারে কীভাবে প্রস্তুতি শুরু করলে সময়ের সঠিক ব্যবহার করা সম্ভব, তা দেখে নেওয়া যাক।
১. প্রথমেই নিজের পরীক্ষার পর্যায় নির্ধারণ করুন
আপনি স্কুল পর্যায়, স্কুল পর্যায়-২ নাকি কলেজ পর্যায়ের পরীক্ষার্থী, সেটি নিশ্চিত করুন। কারণ প্রিলিমিনারির মূল বিষয়গুলো প্রায় একই হলেও কিছু টপিক এবং লিখিত পরীক্ষার বিষয়ভিত্তিক সিলেবাসে পার্থক্য রয়েছে।
২. সম্পূর্ণ সিলেবাস সংগ্রহ করে টপিকভিত্তিক তালিকা তৈরি করুন
সিলেবাসে উল্লেখিত প্রতিটি বিষয়কে ছোট ছোট টপিকে ভাগ করে নিন। এরপর কোন টপিক আপনার আগে থেকেই জানা আছে, কোনটি নতুন এবং কোনটিতে বেশি অনুশীলন প্রয়োজন, তা চিহ্নিত করুন।
এতে প্রস্তুতির শুরুতেই নিজের শক্তিশালী ও দুর্বল জায়গা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাবে।
৩. বিগত শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার প্রশ্ন সমাধান করুন
শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার প্রস্তুতিতে বিগত সালের প্রশ্ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিগত প্রশ্ন সমাধানের মাধ্যমে কোন টপিক থেকে কী ধরনের প্রশ্ন এসেছে, প্রশ্নের কঠিনতার ধরন কেমন এবং কোন বিষয়ের প্রস্তুতিতে আপনার বেশি সময় দেওয়া প্রয়োজন, তা বুঝতে পারবেন।
এক্ষেত্রে শুধু উত্তর মুখস্থ না করে প্রতিটি প্রশ্নের সঠিক উত্তর ও ব্যাখ্যা বোঝার চেষ্টা করুন।
৪. দুর্বল বিষয়গুলোতে আলাদা সময় দিন
সব পরীক্ষার্থীর প্রস্তুতির অবস্থা এক নয়। কেউ ইংরেজিতে ভালো হলেও গণিতে দুর্বল হতে পারেন। আবার কারও বাংলা ভালো হলেও সাধারণ জ্ঞান অংশে তুলনামূলক বেশি সময় প্রয়োজন হতে পারে।
তাই অন্যের পড়ার রুটিন হুবহু অনুসরণ না করে নিজের দুর্বলতা অনুযায়ী পড়ার সময় নির্ধারণ করুন।
বিশেষ করে গণিত ও ইংরেজির মতো নিয়মিত অনুশীলননির্ভর বিষয় প্রতিদিন অল্প হলেও চর্চা করার চেষ্টা করুন।
৫. নিয়মিত MCQ ও Mock Test-এ অংশগ্রহণ করুন
নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ১০০ নম্বরের MCQ পরীক্ষা দেওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে নিয়মিত Mock Test কার্যকর হতে পারে।
মডেল টেস্ট শেষ করার পর শুধু কত নম্বর পেলেন, সেটি দেখলেই হবে না। কোন প্রশ্নগুলো ভুল হয়েছে, কেন ভুল হয়েছে এবং কোন টপিকগুলো আবার পড়তে হবে, সেগুলোও বিশ্লেষণ করুন।
এভাবে নিয়মিত অনুশীলন করলে প্রস্তুতির অগ্রগতি এবং দুর্বলতা সম্পর্কে বাস্তব ধারণা পাওয়া যায়।
৬. লিখিত পরীক্ষার জন্য বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতি রাখুন
কলেজ পর্যায়ের প্রার্থীদের বিশেষ করে নিজের একাডেমিক বিষয়ের প্রস্তুতি ধরে রাখা প্রয়োজন। কারণ প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর লিখিত পরীক্ষার জন্য বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
আপনার নির্বাচিত বিষয়ের লিখিত সিলেবাসে নির্ধারিত Unit, গুরুত্বপূর্ণ ধারণা, বিশ্লেষণমূলক প্রশ্ন এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে গাণিতিক সমস্যা সমাধানের অনুশীলন করুন।
৭. নিয়মিত রিভিশন করুন
নতুন টপিক পড়ার পাশাপাশি আগে পড়া বিষয়গুলো নিয়মিত রিভিশন করা প্রয়োজন।
একটি টপিক শেষ করার কয়েক দিন পর আবার অনুশীলন করুন। বিশেষ করে যেসব প্রশ্ন বারবার ভুল হচ্ছে, সেগুলো আলাদা করে রাখলে পরবর্তী সময়ে দ্রুত রিভিশন করা সহজ হবে।
শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার সিলেবাস সম্পর্কিত সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)
NTRCA Exam Syllabus কোথায় পাওয়া যাবে?
NTRCA Exam Syllabus বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ntrca.gov.bd থেকে সংগ্রহ করা যায়। ওয়েবসাইটের সিলেবাস অংশে স্কুল পর্যায়, স্কুল পর্যায়-২ এবং কলেজ পর্যায়ের সিলেবাস প্রকাশিত রয়েছে।
শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার সিলেবাস কয়টি পর্যায়ে বিভক্ত?
স্কুল পর্যায় ও স্কুল পর্যায়-২-এর প্রিলিমিনারি পরীক্ষার সাধারণ বিষয়গুলো অনেকটাই একই। উভয় পর্যায়ে বাংলা, ইংরেজি, সাধারণ গণিত ও সাধারণ জ্ঞান থাকে। তবে সংশ্লিষ্ট পদ ও লিখিত পরীক্ষার বিষয়ভিত্তিক সিলেবাস গুলো আলাদা।
স্কুল পর্যায় ও স্কুল পর্যায়-২-এর সিলেবাস কি একই?
কলেজ পর্যায়ের প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় বাংলা, ইংরেজি, সাধারণ গণিত ও সাধারণ জ্ঞান থেকে মোট ১০০ নম্বরের প্রশ্ন করা হয়। লিখিত পরীক্ষায় প্রার্থীর নির্বাচিত একাডেমিক বিষয়ের নির্ধারিত সিলেবাস অনুসরণ করতে হয়।
কলেজ পর্যায় শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার সিলেবাসে কী কী বিষয় রয়েছে?
আবশ্যিক MCQ এবং বিষয়ভিত্তিক লিখিত উভয় অংশে আলাদাভাবে পাস নম্বর ছিল ৪০।
শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার পূর্ণমান কত?
পরবর্তী পরীক্ষার নতুন সিলেবাস প্রকাশিত না হলে ১৮তম পরীক্ষার সময় প্রকাশিত সিলেবাসের সাধারণ টপিকগুলো অনুসরণ করে প্রস্তুতি শুরু করতে পারেন। তবে ১৯তমের জন্য কোনো পরিবর্তিত সিলেবাস বা নতুন পরীক্ষাপদ্ধতি ঘোষণা করা হলে সেটিই অনুসরণ করতে হবে।
১৮তম শিক্ষক নিবন্ধনের সিলেবাস দিয়ে কি ১৯তম পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া যাবে?
NTRCA-এর বর্তমান পরিসংখ্যান অনুযায়ী ৬ষ্ঠ শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় মোট ২,৮৩,৩১৪ জন আবেদনকারী ছিলেন।
শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার প্রিলিমিনারি ও লিখিত সিলেবাস কি আলাদা?
হ্যাঁ। প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় চারটি সাধারণ বিষয় থেকে MCQ প্রশ্ন করা হয়। অন্যদিকে লিখিত পরীক্ষায় নির্বাচিত পদ ও বিষয় অনুযায়ী নির্ধারিত সিলেবাস অনুসরণ করতে হয়।
শেষ কথা
আশা করি, আজকের আলোচনা থেকে স্কুল পর্যায়, স্কুল পর্যায়-২ এবং কলেজ পর্যায়ের শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার সিলেবাস ও মানবণ্টন সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পেয়েছেন।
যারা নতুন করে শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার প্রস্তুতি শুরু করতে চাচ্ছেন, তাদের পরামর্শ থাকবে প্রথমেই নিজের পর্যায়ের সিলেবাস PDF সংগ্রহ করুন। এরপর সিলেবাসের প্রতিটি টপিক চিহ্নিত করে একটি বাস্তবসম্মত পড়ার রুটিন তৈরি করুন।
মনে রাখবেন, শুধু অনেক বেশি পড়াশোনা করলেই ভালো প্রস্তুতি নিশ্চিত হয় না। বরং সঠিক সিলেবাস অনুসরণ, বিগত সালের প্রশ্ন সমাধান, নিয়মিত রিভিশন এবং Mock Test-এর মাধ্যমে নিজের প্রস্তুতি যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।
এক্ষেত্রে আপনার শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার প্রস্তুতিকে আরও গুছিয়ে নিতে ব্যবহার করতে পারেন MCQ Wizard অ্যাপ। MCQ Wizard-এ বিগত সালের প্রশ্নব্যাংক, ব্যাখ্যাসহ প্রশ্ন সমাধান, Live Mock Test এবং Performance Analysis-এর মতো সুবিধা রয়েছে। এসব সুবিধা কাজে লাগিয়ে নিয়মিত প্রশ্ন অনুশীলন করার পাশাপাশি নিজের প্রস্তুতির অগ্রগতি ও দুর্বল বিষয়গুলো চিহ্নিত করতে পারবেন।
তাই শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার প্রস্তুতি শুধু বই পড়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে নিয়মিত অনুশীলন ও মডেল টেস্টের মাধ্যমে নিজেকে যাচাই করুন।
আজই MCQ Wizard অ্যাপ ব্যবহার করে আপনার শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার প্রস্তুতি শুরু করুন।
MCQ Wizard – Stay Ready, Stay Ahead.
